শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ও অন্যান্য বৈদিক সাহিত্য অনুযায়ী, নির্গুণ 'পরম ব্রহ্ম' - এর মনে অজ্ঞতাজনিত কোনো সংশয় না থাকলেও, তাঁর সৃষ্টিশক্তিপ্রসূত প্রথম পুরুষ চতুর্মুখ ব্রহ্মা পদ্মনাভ বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে আবির্ভূত হওয়ার পর ঘোর অন্ধকারে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন।
তখন তাঁর মনে প্রধান দুটি গভীর প্রশ্নের উদয় হয় —
১. কোঽহম্?
অর্থাৎ, আমি কে?
২. কস্মাৎ অহং জাতঃ, কিং মে কার্যম্?
অর্থাৎ, আমার উৎস কোথায় এবং আমার কর্তব্যই বা কী?
ব্রহ্মা নিজের উদ্ভব ও উৎসের সন্ধান করতে পদ্মনালে প্রবেশ করে শত বছর ধরে খুঁজেও কারণ দেখতে পাননি।
পরম দিশাহারা অবস্থায় তিনি জলরাশির মাঝখান থেকে এক অলৌকিক শব্দ শুনতে পান - "তপ, তপ", অর্থাৎ, তপস্যা করো।
দৈববাণী মেনে ব্রহ্মা এক হাজার দিব্য বছর ধরে কঠোর ধ্যানে মগ্ন হন। পরে তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শ্রীবিষ্ণু তাঁর হৃদয়ে 'দিব্য জ্ঞান' এবং বৈদিক সত্য প্রকাশ করেন।
পরম ব্রহ্মের মূল স্পন্দন কোনো অজ্ঞতার প্রশ্ন ছিল না, বরং তা ছিল বহুরূপে প্রকাশিত হওয়ার আত্ম-সংকল্প —
একোঽহং বহু স্যাম্ — আমি এক, আমি যেন বহুরূপে সৃষ্টি লাভ করি
আর সেই সংকল্প বাস্তবায়নের জন্যই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা বিষ্ণুর কৃপায় আত্মজ্ঞান ও কর্তব্যের দিকনির্দেশনা পেয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি কাজ শুরু করেছিলেন।


