ভগবান শব্দটির সংজ্ঞা - ভগ; অর্থ ঐশ্বর্য্য এবংবান (বতুপ প্রত্যয় যোগ) ; অর্থ অধিকারী , যার আছে ।
ঠিক যেভাবে যার সুন্দর রূপ আছে –আমরা তাকে বলি রূপবান, যার ধন আছে ধনবান , ঠিক সেভাবেই যিনি ভগ অর্থাৎ ঐশ্বর্যের অধিকারী তাকে বলে ভগবান ।
- “ঐশ্বর্য্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রিয়ঃ । জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষন্নত্ ভগ ইতিঙ্গনা “॥
যার মধ্যে এই ছয়টি গুন পূর্ণমাত্রায় বর্তমান, তিনি হচ্ছেন ভগবান – সমস্ত ঐশ্বর্য্য ,সমস্ত বীর্য্য ,সমস্ত যশ ,সমস্ত শ্রী ,সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য । এই জগতে কেউ বড় ধনী হতে পারে, কিন্তু কেউ দাবী করতে পারেনা আমি সমস্ত ধনের মালিক । এই জগতে কেউ জ্ঞানী হতে পারে ,কিন্তু সে দাবী করতে পারে না সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী । কিন্তু ভগবান সমস্ত ধন ,সমস্ত জ্ঞান ,সমস্ত সৌন্দর্য্য ,সমস্ত যশ ,সমস্ত শক্তির অধিকারী , তাই তাকে বলা হয় ভগবান ।
পরম ব্রহ্ম ভগবান
সর্ম্পকে বেদান্ত সূত্রের প্রথম শ্লোকে বলা হয়েছে —- ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা : সেই পরম ব্রহ্মটি কে ? তার উত্তরে দ্বিতীয় শ্লোকে বর্ননা করা হয়েছে ; জন্মদস্য যতঃ; এই
সুত্রটি শ্রীমদ্ভাগবতের ব্যাসদেব তার শ্লোকে সংযোজন করেছেন। জন্মদস্য যতোহন্বয়াদিতরত শ্চার্থেষ্বভিজ্ঞ স্বরাট্ ; জন্ম আদি অস্য যতঃ –
যা হতে এ দৃশ্যমান জগত অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড ,জন্ম আদি অর্থাৎ সৃষ্টি স্থিতি ও প্রলয় হয় তিনি হচ্ছেন পরম ব্রহ্ম ভগবান।
অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে ।
ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমম্বিতাঃ ॥
ভগবদগীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ননা করেছেন আমি সমস্ত কিছুর উৎস ও সবকিছু আমার কাছ থেকে উৎপত্তি হয়েছে । তাই শ্রীকৃষ্ণ কে ভগবান বলা হয়। তিনি অবতার নন। তিনি সাক্ষাৎ ব্রহ্ম। তাই কৃষ ধাতু অর্থাৎ কর্ষণ থেকে যার জন্ম সেই "নন্দের নন্দন কৃষ্ণ মোর প্রাণ নাথ "