সনাতনীদের প্রকৃত ধর্ম কি?
2 answers
340 views
Uzzwal Dhali
Dip Kar
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

2 Answers

সনাতনীদের প্রকৃত ধর্ম কি? — এই প্রশ্নের উত্তর শ্রুতিশাস্ত্র, স্মৃতিশাস্ত্র, ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত এবং প্রবক্তাগণ (যেমন আচার্য প্রভুপাদ) এর ব্যাখ্যা থেকে জেনে নিই।

সনাতন ধর্মের প্রকৃত অর্থ:

সনাতন অর্থ চিরন্তন আর ধর্ম অর্থ স্বাভাবিক ধর্ম (natural characteristic)।
সুতরাং সনাতন ধর্ম মানে চিরন্তন ধর্ম — যা চিরকাল থাকে, যা পরিবর্তন হয় না।

📖 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (১৮.৬৬)


সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মাং একং শরণং ব্রজ।


অর্থাৎ, সব ধর্ম পরিত্যাগ করে শুধু আমার (কৃষ্ণের) শরণাগত হও।

তার মানে, কৃষ্ণের শরণাগত হওয়াই সকল ধর্মের সার।

সনাতন ধর্মের মূল শিক্ষাঃ

জীবের প্রকৃতিঃ জীবের প্রকৃত ধর্ম হল কৃষ্ণের দাসত্ব

📖 চৈতন্য চরিতামৃত (মধ্য ২০.১০৮)

জীবের স্বরূপ হইল কৃষ্ণের নিত্য দাস।

অর্থাৎঃ প্রতিটি জীবের প্রকৃত ধর্ম হল কৃষ্ণের সেবা করা।

পাঁচটি মূল ভিত্তি (পঞ্চ-তত্ত্ব)
১. পরমেশ্বর (কৃষ্ণ) — সর্বোচ্চ সত্য।
২. জীবাত্মা (আমরা) — কৃষ্ণের দাস।
৩. প্রকৃতি (মায়া) — কৃষ্ণের শক্তি।
৪. কাল (সময়) — কৃষ্ণের শাসনাধীন।
৫. কর্ম (কার্য) — কৃষ্ণের ইচ্ছা অনুসারে।

সনাতন ধর্মের মূল মন্ত্রঃ

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

এই মহামন্ত্র দ্বারা কৃষ্ণভাবনাময় জীবনযাপন করাই সনাতন ধর্মের মূল উদ্দেশ্য।

প্রভুপাদের ব্যাখ্যা (শ্রীল প্রভুপাদ - ভগবদ্গীতা ব্যাখ্যা থেকে)
"সনাতন ধর্ম মানে আত্মার চিরন্তন ধর্ম, যা কখনও বিলুপ্ত হয় না।
এই ধর্ম হল কৃষ্ণকে ভালোবাসা, কৃষ্ণের সেবা করা। অন্য কোনো ধর্ম ক্ষণস্থায়ী — সনাতন ধর্ম চিরকালীন।"
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ব্যাখ্যা ৪.৬

উপসংহারঃ

সনাতন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা হল:

  • আমরা আত্মা, দেহ নয়।

  • কৃষ্ণই একমাত্র পরম পুরুষ।

  • কৃষ্ণের শরণাগত হয়ে, তাঁর প্রেমে, সেবায় ও নামস্মরণে জীবন কাটানো।

Rajib DasVerified
May 28, 2025

শ্রীমদ্ভাগবত

স্কন্ধ-৫, অধ‍্যায়-১৩, শ্লোক:১৮-২৬

শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিপ্রেম স্বামী গুরুমহারাজ

তারিখ: ২৭.০৫.২০৫ মঙ্গলবার।

১) জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা। কিন্তু কেউ যদি মনুষ‍্য জন্ম পেয়েও কেবল মৈথুনাসক্ত হয়, তাহলে জীবনের সেই উদ্দেশ্য (কৃষ্ণপ্রেম) সে ভুলে যায়।

২) সমস্ত জন্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জন্ম হল মনুষ্যজন্ম। কারণ এই জন্মেই আমরা ভগবদ্ভক্তি করার সুযোগ পেয়ে থাকি।

৩) আমরা যখন কাউকে ভগবদ্ভক্তির পথে নিয়ে আসি, তখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে, সেই ব্যক্তির জীবন-যাপন, দান-ধ্যান ইত্যাদি সব কিছুর উপর নিজের অধিকার ফলাতে চাই। এতে কেবল আমাদের নিকৃষ্ট মনের পরিচয় পাওয়া যায় ।

৪) বৈষ্ণবের চরণে অপরাধ করার ফলে আমাদের ভগবদ্ধামে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাই বৈষ্ণবদের সাথে আচরণে আমাদের অত‍্যন্ত সাবধান থাকা উচিত। আর, আমরা যদি কখনো কোন বৈষ্ণবের চরণে অপরাধ করে ফেলি, তাহলে তাঁর কাছে আমাদের ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া উচিত।

"(জয়) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ।

শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।"

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"