পতিত যোগীর কী গতি লাভ হয়?
2 answers
12 views
Uzzwal Dhali
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

2 Answers

꧁◼️প্রশ্ন:৭ পতিত যোগীর কী গতি লাভ হয়? (৬/৩৭-৩৯) ◼️

****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – ষষ্ঠ অধ্যায় – ধ্যানযোগ*****

|অর্জুন উবাচ |

❝ অযতিঃ শ্রদ্ধয়া-উপেতো যোগাৎ-চলিতমানসঃ।
অপ্রাপ্য যোগসংসিদ্ধিং কাং গতিং কৃষ্ণ গচ্ছতি॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৭)

অনুবাদ: “অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন━ হে কৃষ্ণ! যিনি প্রথমে শ্রদ্ধা সহকারে যোগে যুক্ত থাকার পরেও চিত্তচাঞ্চল্য হেতু ভ্রষ্ট হয়ে যোগে সিদ্ধিলাভ (অর্থাৎ ভগবদ্ সাক্ষাৎকার লাভ) করতে না পারেন, তবে সেই ব্যর্থ যোগীর কি গতি লাভ হয়?

❝ কচ্চিৎ-ন-উভয়বিভ্ৰষ্টঃ  ছিন্নাভ্রম্-ইব নশ্যতি।
অপ্রতিষ্ঠো মহাবাহো বিমূঢ়ো ব্রহ্মণঃ পথি॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৮)

অনুবাদ: “হে মহাবাহো কৃষ্ণ! কর্ম ও যোগ হতে ভ্রষ্ট ব্যক্তি ব্রহ্ম লাভের (ঈশ্বরপ্রাপ্তির) পথ থেকে বিমূঢ় (বিভ্রান্ত) হয়ে যে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে,  তবে সে কি ছিন্ন মেঘের মতো একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে?

❝ এতন্মে সংশয়ং কৃষ্ণ ছেত্তুম-অর্হসি-অশেষতঃ।
ত্বদন্যঃ সংশয়স্য-অস্য ছেত্তা ন হি-উপপদ্যতে॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৯)

অনুবাদ: “হে কৃষ্ণ! তুমিই কেবল আমার এই সংশয় দূর করতে সমর্থ। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউই আমার এই সংশয় দূর করতে পারবে না।

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ পার্থ নৈবেহ নামুত্র বিনাশস্তস্য বিদ্যতে।
ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিৎ দুর্গতিং তাত গচ্ছতি॥৪০॥❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন— হে পার্থ! শুভানুষ্ঠানকারী পরমার্থবিদের (ঈশ্বর লাভের জন্য যাঁরা কর্ম করেন) ইহলোকে ও পরলোকে কোন দুর্গতি  হয় না। হে বৎস! তার কারণ, কল্যানকারীর কখনও অধোগতি (দুর্গতি প্রাপ্ত) হয় না।

❝ প্রাপ্য পুণ্যকৃতাং লোকানুষিত্বা শাশ্বতীঃ সমাঃ।
শুচীনাং শ্রীমতাং গেহে যোগভ্রষ্টঃ-অভিজায়তে॥৪১॥ ❞

অনুবাদ: “যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি পুণ্যাত্মাগণের প্রাপ্যলোক অর্থাৎ স্বর্গাদি উত্তমলোক লাভ করে তাতে বহুকাল বাস করে পুনরায় সদাচারসম্পন্ন ব্রাহ্মণদের গৃহে অথবা ধনীর গৃহে জন্নগ্রহণ করেন।

❝ অথবা যোগিনামেব কুলে ভবতি ধীমতাম্।
এতদ্ধি দুর্লভতরং লোকে জন্ম যৎ-ঈদৃশম্॥৪২॥ ❞

অনুবাদ: “অথবা (দীর্ঘ সাধনার কারণে) যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি সেইসকল লোকে না গিয়ে জ্ঞানবান যোগীর কুলে জন্মগ্রহণ করেন ৷ এরূপ জন্ম জগতে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুর্লভ ৷

❝ তত্র তং বুদ্ধিসংযোগং লভতে পৌর্বদেহিকম্।
যততে চ ততো ভূয়ঃ সংসিদ্ধৌ কুরুনন্দন॥৪৩॥ ❞

অনুবাদ: “হে কুরুনন্দন! সেই প্রকার জন্মগ্রহণ করার ফলে তিনি তাঁর পূর্বজন্মের সুকৃতির কারণে পারমার্থিক চেতনার বুদ্ধিসংযোগ লাভ করে এবং তার প্রভাবে পুনরায় পরমাত্মলাভের জন্য তিনি পূর্বাপেক্ষা তীব্রভাবে চেষ্টা করেন ৷ 

❝ পূর্বাভ্যাসেন তেনৈব হ্রিয়তে হি-অবশঃ-অপি সঃ।
জিজ্ঞাসুর-অপি যোগস্য শব্দব্রহ্ম-অতিবৰ্ততে॥৪৪॥ ❞

অনুবাদ: “তিনি (শ্রীসম্পন্ন সদাচারী ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণকারী) যোগভ্রষ্ট হয়েও পূর্বজন্মের অভ্যাসবশে ভগবানের প্রতি (যোগ-সাধনের প্রতি) আকৃষ্ট হন। এই প্রকার যোগশাস্ত্রের জিজ্ঞাসু পুরুষ বেদে-বর্ণিত সকাম কর্মমার্গকে অতিক্রম করেন, অর্থাৎ সকাম কর্মমার্গে যে ফল নির্দিষ্ট আছে, তার থেকে উৎকৃষ্ট ফল লাভ করেন।

❝ প্রযত্নাদ্ যতমানস্তু যোগী সংশুদ্ধকিল্বিষঃ।
অনেকজন্ম-সংসিদ্ধস্ততো যাতি পরাং গতিম্॥৪৫॥ ❞

অনুবাদ: “কিন্তু যত্নশীল অভ্যাসকারী যোগী, বিগত বহুপূর্বজন্মের সঞ্চিত সাধন সংস্কারের প্রভাবে ইহজন্মে পূর্বজন্মকৃত যত্ন অপেক্ষা অধিকতর যত্নবান হয়ে এই জন্মেই পাপ মুক্ত হয়ে যান এবং তৎকালেই পরমগতি লাভ করেন। 

❝ তপস্বিভ্যঃ-অধিকো যোগী জ্ঞানিভ্যঃ-অপি মতোহধিকঃ।
কর্মিভ্যশ্চ-অধিকো যোগী তস্মাদযোগী ভবার্জুন॥৪৬॥ ❞

অনুবাদ: “যোগী তপস্বীদের থেকে শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানীদের (অর্থাৎ শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতগণের) থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সকাম কর্মীদের থেকেও শ্রেষ্ঠ। অতএব, হে অর্জুন! সর্ব অবস্থাতেই তুমি যোগী হও।

◼️যোগী কাকে বলে? ◼️

ভগবত গীতার ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের শুরুতেই ভগবান অর্জুনকে বলছেন, ━

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ অনাশ্রিতঃ কর্মফলং কার্যং কর্ম করোতি যঃ।
স সন্ন্যাসী চ যোগী চ ন নিরগ্নিঃ-ন চ-অক্রিয়ঃ॥১॥❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন— কেবল অগ্নিত্যাগী ব্যক্তি (যিনি অগ্নিহোত্রাদি কর্ম ত্যাগ করেছেন) এবং কর্মত্যাগী ব্যক্তি (দৈহিক চেষ্টাশূন্য) তিনি সন্ন্যাসী বা যোগী নন। যিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে তাঁর কর্তব্য কর্ম করেন, তিনিই যথার্থ সন্ন্যাসী বা যোগী।

❝ যং সন্ন্যাসম্-ইতি প্রাহুরর্যোগং তং বিদ্ধি পান্ডব।
ন হি-অসন্ন্যস্তসঙ্কল্পঃ যোগী ভবতি কশ্চন॥২॥ ❞

অনুবাদ: “হে পান্ডব! যাকে সন্ন্যাস বলা যায়, তাকেই যোগ বলা যায়, কারণ ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা ত্যাগ না করলে কখনই যোগী হওয়া যায় না।

◼️সমস্ত প্রকার যোগীদের মধ্যে কোন প্রকার যোগী শ্রেষ্ঠ? ◼️

❝ যোগিনাম্-অপি সর্বেষাং মদগতেন-অন্তরাত্মনা।
শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ॥৪৭॥ ❞

অনুবাদ: “যিনি শ্রদ্ধা সহকারে মদ্‌গত চিত্তে আমার ভজনা করেন, তিনিই সর্বদা অন্তরঙ্গভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনিই সমস্ত যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সেটিই আমার অভিমত।

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — যিনি শ্রদ্ধা সহকারে ‘মদ্‌গত চিত্তে’ অর্থাৎ কৃষ্ণভাবনাময় চিত্তে শ্রীকৃষ্ণের ভজনা করেন, শ্রীকৃষ্ণেতেই আসক্ত হয়ে অন্তরে সবসময় তাঁর কথা চিন্তা করেন তিনি শ্রেষ্ঠ যোগী। তিনি সব থেকে অন্তরঙ্গ ভাবে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকেন।

꧁◼️প্রশ্ন:৭ পতিত যোগীর কী গতি লাভ হয়? (৬/৩৭-৩৯) ◼️

****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – ষষ্ঠ অধ্যায় – ধ্যানযোগ*****

|অর্জুন উবাচ |

❝ অযতিঃ শ্রদ্ধয়া-উপেতো যোগাৎ-চলিতমানসঃ।
অপ্রাপ্য যোগসংসিদ্ধিং কাং গতিং কৃষ্ণ গচ্ছতি॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৭)

অনুবাদ: “অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন━ হে কৃষ্ণ! যিনি প্রথমে শ্রদ্ধা সহকারে যোগে যুক্ত থাকার পরেও চিত্তচাঞ্চল্য হেতু ভ্রষ্ট হয়ে যোগে সিদ্ধিলাভ (অর্থাৎ ভগবদ্ সাক্ষাৎকার লাভ) করতে না পারেন, তবে সেই ব্যর্থ যোগীর কি গতি লাভ হয়?

❝ কচ্চিৎ-ন-উভয়বিভ্ৰষ্টঃ  ছিন্নাভ্রম্-ইব নশ্যতি।
অপ্রতিষ্ঠো মহাবাহো বিমূঢ়ো ব্রহ্মণঃ পথি॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৮)

অনুবাদ: “হে মহাবাহো কৃষ্ণ! কর্ম ও যোগ হতে ভ্রষ্ট ব্যক্তি ব্রহ্ম লাভের (ঈশ্বরপ্রাপ্তির) পথ থেকে বিমূঢ় (বিভ্রান্ত) হয়ে যে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে,  তবে সে কি ছিন্ন মেঘের মতো একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে?

❝ এতন্মে সংশয়ং কৃষ্ণ ছেত্তুম-অর্হসি-অশেষতঃ।
ত্বদন্যঃ সংশয়স্য-অস্য ছেত্তা ন হি-উপপদ্যতে॥ ❞

━┉┈┈(ভগবদ্গী‌তা, ৬/৩৯)

অনুবাদ: “হে কৃষ্ণ! তুমিই কেবল আমার এই সংশয় দূর করতে সমর্থ। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউই আমার এই সংশয় দূর করতে পারবে না।

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ পার্থ নৈবেহ নামুত্র বিনাশস্তস্য বিদ্যতে।
ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিৎ দুর্গতিং তাত গচ্ছতি॥৪০॥❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন— হে পার্থ! শুভানুষ্ঠানকারী পরমার্থবিদের (ঈশ্বর লাভের জন্য যাঁরা কর্ম করেন) ইহলোকে ও পরলোকে কোন দুর্গতি  হয় না। হে বৎস! তার কারণ, কল্যানকারীর কখনও অধোগতি (দুর্গতি প্রাপ্ত) হয় না।

❝ প্রাপ্য পুণ্যকৃতাং লোকানুষিত্বা শাশ্বতীঃ সমাঃ।
শুচীনাং শ্রীমতাং গেহে যোগভ্রষ্টঃ-অভিজায়তে॥৪১॥ ❞

অনুবাদ: “যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি পুণ্যাত্মাগণের প্রাপ্যলোক অর্থাৎ স্বর্গাদি উত্তমলোক লাভ করে তাতে বহুকাল বাস করে পুনরায় সদাচারসম্পন্ন ব্রাহ্মণদের গৃহে অথবা ধনীর গৃহে জন্নগ্রহণ করেন।

❝ অথবা যোগিনামেব কুলে ভবতি ধীমতাম্।
এতদ্ধি দুর্লভতরং লোকে জন্ম যৎ-ঈদৃশম্॥৪২॥ ❞

অনুবাদ: “অথবা (দীর্ঘ সাধনার কারণে) যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি সেইসকল লোকে না গিয়ে জ্ঞানবান যোগীর কুলে জন্মগ্রহণ করেন ৷ এরূপ জন্ম জগতে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুর্লভ ৷

❝ তত্র তং বুদ্ধিসংযোগং লভতে পৌর্বদেহিকম্।
যততে চ ততো ভূয়ঃ সংসিদ্ধৌ কুরুনন্দন॥৪৩॥ ❞

অনুবাদ: “হে কুরুনন্দন! সেই প্রকার জন্মগ্রহণ করার ফলে তিনি তাঁর পূর্বজন্মের সুকৃতির কারণে পারমার্থিক চেতনার বুদ্ধিসংযোগ লাভ করে এবং তার প্রভাবে পুনরায় পরমাত্মলাভের জন্য তিনি পূর্বাপেক্ষা তীব্রভাবে চেষ্টা করেন ৷ 

❝ পূর্বাভ্যাসেন তেনৈব হ্রিয়তে হি-অবশঃ-অপি সঃ।
জিজ্ঞাসুর-অপি যোগস্য শব্দব্রহ্ম-অতিবৰ্ততে॥৪৪॥ ❞

অনুবাদ: “তিনি (শ্রীসম্পন্ন সদাচারী ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণকারী) যোগভ্রষ্ট হয়েও পূর্বজন্মের অভ্যাসবশে ভগবানের প্রতি (যোগ-সাধনের প্রতি) আকৃষ্ট হন। এই প্রকার যোগশাস্ত্রের জিজ্ঞাসু পুরুষ বেদে-বর্ণিত সকাম কর্মমার্গকে অতিক্রম করেন, অর্থাৎ সকাম কর্মমার্গে যে ফল নির্দিষ্ট আছে, তার থেকে উৎকৃষ্ট ফল লাভ করেন।

❝ প্রযত্নাদ্ যতমানস্তু যোগী সংশুদ্ধকিল্বিষঃ।
অনেকজন্ম-সংসিদ্ধস্ততো যাতি পরাং গতিম্॥৪৫॥ ❞

অনুবাদ: “কিন্তু যত্নশীল অভ্যাসকারী যোগী, বিগত বহুপূর্বজন্মের সঞ্চিত সাধন সংস্কারের প্রভাবে ইহজন্মে পূর্বজন্মকৃত যত্ন অপেক্ষা অধিকতর যত্নবান হয়ে এই জন্মেই পাপ মুক্ত হয়ে যান এবং তৎকালেই পরমগতি লাভ করেন। 

❝ তপস্বিভ্যঃ-অধিকো যোগী জ্ঞানিভ্যঃ-অপি মতোহধিকঃ।
কর্মিভ্যশ্চ-অধিকো যোগী তস্মাদযোগী ভবার্জুন॥৪৬॥ ❞

অনুবাদ: “যোগী তপস্বীদের থেকে শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানীদের (অর্থাৎ শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতগণের) থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সকাম কর্মীদের থেকেও শ্রেষ্ঠ। অতএব, হে অর্জুন! সর্ব অবস্থাতেই তুমি যোগী হও।

◼️যোগী কাকে বলে? ◼️

ভগবত গীতার ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের শুরুতেই ভগবান অর্জুনকে বলছেন, ━

|শ্রীভগবানুবাচ|

❝ অনাশ্রিতঃ কর্মফলং কার্যং কর্ম করোতি যঃ।
স সন্ন্যাসী চ যোগী চ ন নিরগ্নিঃ-ন চ-অক্রিয়ঃ॥১॥❞

অনুবাদ: “পরমেশ্বর ভগবান বললেন— কেবল অগ্নিত্যাগী ব্যক্তি (যিনি অগ্নিহোত্রাদি কর্ম ত্যাগ করেছেন) এবং কর্মত্যাগী ব্যক্তি (দৈহিক চেষ্টাশূন্য) তিনি সন্ন্যাসী বা যোগী নন। যিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে তাঁর কর্তব্য কর্ম করেন, তিনিই যথার্থ সন্ন্যাসী বা যোগী।

❝ যং সন্ন্যাসম্-ইতি প্রাহুরর্যোগং তং বিদ্ধি পান্ডব।
ন হি-অসন্ন্যস্তসঙ্কল্পঃ যোগী ভবতি কশ্চন॥২॥ ❞

অনুবাদ: “হে পান্ডব! যাকে সন্ন্যাস বলা যায়, তাকেই যোগ বলা যায়, কারণ ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা ত্যাগ না করলে কখনই যোগী হওয়া যায় না।

◼️সমস্ত প্রকার যোগীদের মধ্যে কোন প্রকার যোগী শ্রেষ্ঠ? ◼️

❝ যোগিনাম্-অপি সর্বেষাং মদগতেন-অন্তরাত্মনা।
শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ॥৪৭॥ ❞

অনুবাদ: “যিনি শ্রদ্ধা সহকারে মদ্‌গত চিত্তে আমার ভজনা করেন, তিনিই সর্বদা অন্তরঙ্গভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনিই সমস্ত যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সেটিই আমার অভিমত।

আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — যিনি শ্রদ্ধা সহকারে ‘মদ্‌গত চিত্তে’ অর্থাৎ কৃষ্ণভাবনাময় চিত্তে শ্রীকৃষ্ণের ভজনা করেন, শ্রীকৃষ্ণেতেই আসক্ত হয়ে অন্তরে সবসময় তাঁর কথা চিন্তা করেন তিনি শ্রেষ্ঠ যোগী। তিনি সব থেকে অন্তরঙ্গ ভাবে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকেন।