꧁◼️প্রশ্ন:১৫ শাস্ত্র বহির্ভূত শ্রদ্ধা কিরূপ? (১৭/১) ◼️꧂
****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – সপ্তদশ অধ্যায় – শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ*****
|অর্জুন উবাচ |
❝ যে শাস্ত্রবিধিম্-উৎসৃজ্য যজন্তে শ্রদ্ধয়া-অন্বিতাঃ।
তেষাম্ নিষ্ঠা তু কা কৃষ্ণ সত্ত্বম্-আহো রজস্তমঃ॥ ❞
━┉┈┈(ভগবদ্গীতা, ১৭/১)
অনুবাদ: “অর্জুন বললেন – হে কৃষ্ণ! যেসব ব্যক্তি শাস্ত্রবিধি ত্যাগ করে শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে দেব-দেবীর পূজা করেন, তাদের সেই নিষ্ঠা কীরূপ ? সাত্ত্বিক, রাজসিক না তামসিক ?”
|শ্রীভগবানুবাচ|
❝ ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা।
সাত্ত্বিকী রাজসী চৈব তামসী চেতি তাং শৃণু॥২॥ ❞
অনুবাদ:“পরমেশ্বর ভগবান বললেন ━ মানুষের শাস্ত্রীয় সংস্কাররহিত শুধুমাত্র স্বভাবজাত শ্রদ্ধা তিন প্রকারের হয়—সাত্ত্বিকী , রাজসী ও তামসী ৷ এখন সেই সম্বন্ধে শ্রবণ কর।”
❝ সত্ত্বানুরূপা সর্বস্য শ্রদ্ধা ভবতি ভারত।
শ্রদ্ধাময়ঃ-অয়ম্ পুরুষো যো যচ্ছ্রদ্ধঃ স এব সঃ॥৩॥ ❞
অনুবাদ:“হে ভারত [অর্জুন] ! প্রত্যেক মানুষের শ্রদ্ধা তার অন্তঃকরণ অনুযায়ী হয়ে থাকে ৷ মানুষ শ্রদ্ধাময়। তাই যে ব্যক্তি যে রূপ গুণের প্রতি শ্রদ্ধাযুক্ত, সে সেই রকম শ্রদ্ধাবান।”
❝ যজন্তে সাত্ত্বিকাঃ দেবান্ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।
প্রেতান্ ভূতগণাংশ্চ-অন্যে যজন্তে তামসা জনাঃ॥৪॥ ❞
অনুবাদ:“সাত্ত্বিক ব্যক্তিগণ দেবতাদের পূজা করে, রাজসিক ব্যক্তিগণ যক্ষ ও রাক্ষসদের পূজা করে, এবং তামসিক ব্যক্তিগণ ভূত ও প্রেতাত্মাদের পূজা করে।”
❝ অশাস্ত্রবিহিতং ঘোরং তপ্যন্তে যে তপো জনাঃ।
দম্ভ-অহঙ্কারসংযুক্তাঃ কাম-রাগ-বল-অন্বিতাঃ॥৫॥
কর্ষয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামম্ অচেতসঃ।
মাং চৈব-অন্তঃশরীরস্থং তান্ বিদ্ধি-আসুরনিশ্চয়ান্॥৬॥ ❞
অনুবাদ:“যে সমস্ত অবিবেকী ব্যক্তি শাস্ত্রবিধিবর্জিত হয়ে শুধুমাত্র মনঃকল্পিত ঘোর তপস্যা করে এবং দম্ভ-অহংকারযুক্ত এবং কামনা, আসক্তি ও বলের অভিমানে যুক্ত হয়ে তাদের দেহস্থ ভূতসমূহকে এবং অন্তরস্থ পরমাত্মারূপ আমাকে ক্লেশ প্রদান করে, সেই অজ্ঞানী ব্যক্তিদের তুমি নিশ্চিতভাবে আসুরিক বলে জানবে। ”
(আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — পঞ্চ মহাভূত (মৃত্তিকা, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ), মন, বুদ্ধি, অহংকার, প্রধান (অপ্রকাশিত অবস্থায় প্রকৃতির তিনটি গুণ), পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক), পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয় (বাক্, পাণি/হাত, পাদ/পা, পায়ু ও উপস্থ/জননেন্দ্রিয়) ও পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের বিষয় (রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ ও স্পর্শ)— এই চব্বিশটি তত্ত্বকে সমষ্টিগতভাবে বলা হয় ‘কর্মক্ষেত্র‘ বা ‘ভূত (প্রাণী) সমূহ‘। ত্রয়োদশ অধ্যায়ের পঞ্চম শ্লোকে ক্ষেত্রের নামে এর বর্ণনা করা হয়েছে।)


