সনাতন ধর্মের চারটি স্তম্ভ কি কি?
2 answers
119 views
Debasish Biswas
Uzzwal Dhali
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

2 Answers

সনাতন ধর্মের চারটি স্তম্ভ কি কি??

মন্দিরের চারটি স্তম্ভ রয়েছে। সেই চারটি স্তম্ভ হচ্ছে ধর্মের চারটি স্তম্ভের প্রতীক। ধর্মের চারটি স্তম্ভ কি কি? প্রথমে হচ্ছে দয়া, তারপর দ্বিতীয় স্তম্ভটি হচ্ছে তপশ্চর্যা, তৃতীয়টি সত্যবাদিতা এবং চতুর্থ স্তম্ভটি হল আত্মসংযম। আপনারা আপনাদের গৃহে এই দয়া, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম এবং তপশ্চর্যারূপ চারটি স্তম্ভকে প্রতিষ্ঠা করে, আপনাদের গৃহকে মন্দিরে পরিণত করতে পারেন। তার আগে অবশ্যই আপনাকে এই চারটি স্তম্ভের যথার্থ অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে হবে।

꧁✸১#দয়া✸꧂

দয়া অর্থ কি? দয়া প্রদর্শন বলতে কি বোঝায়? দয়ার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে অন্য সমস্ত জীবকে শ্রীভগবানের অংশরূপে দর্শন করা, অন্য সমস্ত জীবকেই আপনার একান্ত আপন বলে অনুভব করা। তাই অন্য কোন প্রাণী বা জীবকে হত্যা করা হলে সেটি দয়া নয়। আপনি কি কখনও আপনার আপনজনকে হত্যা করতে পারেন?

তাই আপনি যদি দয়া প্রদর্শন করতে চান, ধর্মের চারটি মূল স্তম্ভকে প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে অন্য সব প্রাণী হত্যা বন্ধ করতে হবে। এমনকি মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াও ত্যাগ করতে হবে। অনেক সময় কেউ কেউ আমাকে বলে থাকে যে, মাছ হচ্ছে জলের সবজি। কিন্তু শাস্ত্রে সেরকম কোন উল্লেখ বা প্রমাণ নেই।

আপনার যেরকম বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, একটি মাছেরও তেমনি বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাকে হত্যা করার কোন অধিকার আপনার নেই। একটি মাছকে ধরে খাওয়ার জন্য আপনার এই দুর্লভ মনুষ্য জন্মে চেতনার অপব্যয় ঘটানো উচিত নয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, প্রকৃতপক্ষে একটি জীব আরেকটি জীবকে আহার করে জীবন ধারণ করে। কিন্তু আপনাকে জানতে হবে কোন্ জীব কোন্ জীবের আহার।

পশুরা জানে যে, তাদের আহার কোনটি। আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন যে, একটি গরু কোনও ভেড়া বা কোনও ছাগল মেরে খাচ্ছে? না । সেটা কখনই সম্ভব নয়। একটি গরু জানে যে, তার আহার্য বস্তু হচ্ছে ঘাস। আবার তেমনি আপনারা কি কখনও কল্পনা করতে পারেন যে, একটি বাঘ কেবল ঘাস খাচ্ছে? না। একটি বাঘ ভালোমতেই জানে যে তার আহার কোনটি।

কিন্তু মানুষের আহার তাহলে কি? মানুষের আহার শ্রীভগবান শাস্ত্রে নির্ধারিত করে রেখেছেন। মানুষের আহার হচ্ছে, শাক সবজি, ফল-মূল, শস্য, দুধ ইত্যাদি। কত রকম সুন্দর সুন্দর উপাদেয় নিরামিষ খাদ্য রয়েছে। প্রাণী হত্যা না করে আমরা সেই সব খাদ্য খেয়েই সার্থকভাবে জীবন ধারণ করতে পারি।

কিন্তু মানুষ ভগবৎ বিমুখ হবার ফলে বিভ্রান্তির অন্ধকারে আচ্ছাদিত হয়ে বুঝতে পারছে না তার খাদ্য কি? তাই সে এখন সর্বভূক হয়ে গেছে। সে পশুর অনুকরণ করছে। সে নির্দয়ভাবে প্রাণীহত্যা করছে। কিন্তু আপনি যদি প্রাণীহত্যা না করেন তাহলে আপনি দয়া করছেন বা অন্যদের দয়া প্রদর্শন করছেন।

꧁✸২#তপ✸꧂

সমস্ত নেশা ত্যাগ করতে হবে। ধূম বা পানীয় ইত্যাদি যত প্রকার মাদক দ্রব্য রয়েছে সেগুলি ত্যাগ করা কর্তব্য। যেমন পানে জর্দা দেওয়া, এটা এক ধরনের নেশা বা মাদকতা। চা এবং কফিতে রয়েছে আমাদের স্নায়ুকে উত্তেজিত করার মতো নেশাগত পদার্থ। সিগারেটেও নিকোটিন নামক এক প্রকার উত্তেজক পদার্থ রয়েছে। মদ বা ঐ জাতীয় অন্যান্য সব নেশার কথা আর কিই বা বলব। তাই আপনারা যদি শ্রীভগবানের সান্নিধ্য লাভ করতে চান তাহলে এই সমস্ত নেশাগুলি আপনাকে পরিত্যাগ করতেই হবে।

꧁✸৩#সত্যম✸꧂

জুয়া, পাশা ইত্যাদি দ্যূতক্রীড়া, বিভিন্ন নেশাভাঙ ইত্যাদির মাধ্যমে সত্যের বিনাশ হয়। আমরা যদি সত্যবাদী হতে চাই তাহলে আমাদের অবশ্যই সমস্ত রকমের দ্যূতক্রীড়ার পরিকল্পনাগুলি পরিত্যাগ করতে হবে।

꧁✸৪#শৌচং✸꧂

ধর্মের আরেকটি স্তম্ভ হচ্ছে শৌচ বা শুচিতা অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। কিন্তু শুধু বাহ্যিকভাবে আমাদের শরীর এবং পরিধেয় পরিষ্কার রাখলেই তা শুচিতা হল না। আমাদের হৃদয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর সেটি করাই হচ্ছে কঠিন। কাপড়-চোপড় পরিষ্কার রাখা খুবই সহজ। কিন্তু হৃদয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা তো মানুষ আজ ভুলেই গেছে।

জন্ম-জন্মান্তরের কর্মচক্র বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার আবর্তে আমরা আবদ্ধ হয়ে রয়েছি। এই কর্মচক্র একটি ঘূর্ণায়মান পাখার মতো ক্রমাগত ঘুরেই চলেছে। একটি ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখাকে থামানো তখনই কেবল সম্ভব যখন আমরা তার বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিন্ন করতে প্লাগটা খুলে ফেলি। ঠিক তেমনই আমরা যখন আমাদের সমস্ত কর্ম শ্রীভগবানের উদ্দেশ্যে নিবেদন করি, তখন আপনা থেকেই জড়-মায়ারূপ বিদ্যুৎ থেকে ঘূর্ণায়মান পাখারূপ আমাদের কর্মচক্রের সংযোগ ছিন্ন হয়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে যে কর্ম সম্পাদিত হয় তার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তাকে বলা হয় কর্মযোগ। ‘যোগ’ কথাটির অর্থ হচ্ছে যুক্ত হওয়া। আমাদের কার্যকলাপের ফলগুলি শ্রীভগবানকে নিবেদন করার মাধ্যমে আমরা শ্রীভগবানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন-

চেতোদর্পণমার্জনং ভব-মহাদাবাগ্নি-নির্বাপণম্।

শ্রেয়ঃ কৈরবচন্দ্রিকাবিতরণং বিদ্যাবধূজীবনম্।।

আনন্দাম্বুধিবর্ধনং প্রদিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং

সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্॥

(শ্রীশিক্ষাষ্টকম্- ১ম শ্লোক)

এই যে হরিনাম সংকীর্তন, তা করার ফলে আমাদের চিত্তরূপ দর্পণের আবর্জনাগুলি মার্জন বা পরিষ্কার করা হয়। সমস্ত পাপ-পঙ্কিল কামনা-বাসনারূপ ময়লাগুলি আমাদের থেকে বিদূরিত হয়। তাই যারা শ্রীভগবানের পাদপদ্মের একনিষ্ঠ সেবক, তারা বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উভয়ভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখেন। সত্যবাদিতা এই শুচিতারই একটি অঙ্গ।

কীভাবে ধর্মের স্তম্ভ রক্ষা করবেন?

আপনারা বলতে পারেন, এগুলি আমরা ছাড়ব কি করে ? এই সমস্ত বস্তু ত্যাগ করার শক্তি আমি কোথায় পাব? এর উত্তর হচ্ছে- আপনি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ বা কীর্তন অনুশীলন করুন। ভগবানের নাম কীর্তন করার মাধ্যমে তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করার ফলে আপনারা ঐসব ছেড়ে দেওয়ার শক্তি পাবেন। কেননা ভগবানের নাম কীর্তন করার ফলে যে উন্নত স্তরের স্বাদ পাওয়া যায়, তাতে নিকৃষ্ট স্বাদ অনায়াসে ত্যাগ করা সম্ভব।

আমরা তো এই সমস্ত নেশা কত বছর ধরে করিনি, তার জন্য তো আমাদের কোন স্পৃহা জাগে না। তাহলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সারা বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হচ্ছে কিভাবে? সারা পৃথিবী জুড়ে কত শত মানুষ এই সব নেশায় আচ্ছন্ন ছিল, কিন্তু কৃষ্ণভাবনামৃতে যোগদানের ফলে তারা এই সমস্ত মাদক দ্রব্যের নেশা পরিত্যাগ করেছে। এখন আপনিও হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনের অনুশীলন শুরু করলে দেখবেন যে এই ধরনের নেশার প্রতি আপনার আর কোন আসক্তি থাকবে না।

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার সুফল আপনি লাভ করবেন। যে কোন পরিবেশেই এই আনন্দ আপনার হৃদয়কে সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখবে এবং অবশেষে আপনার এই দেহের অবসানের পর, অর্থাৎ আপনার মৃত্যুর পর এই আনন্দ আপনাকে আপনার প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে পৌঁছে দেবে।

মহামন্ত্র কীর্তন করার মাধ্যমে আমরা যখন শ্রীভগবানের আশ্রয় গ্রহণ করি তখন ভগবান আমাদের সমস্ত অভাব পূর্ণ করে দেন। আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ভগবান তাই আমাদের সরবরাহ করেন। তখন আর আমাদের কোন অভাব থাকে না। আপনারা ভেবে দেখুন প্রকৃতিতে পাখিরা, পিঁপড়েরা, মাছেরা কি কখনও অনাহারে থাকে? না। প্রতিটি জীবই ভগবানের কাছ থেকে তার প্রয়োজনগুলি প্রাপ্ত হচ্ছে। তাহলে মানুষকে কেন ভগবান কৃপা করবেন না? প্রকৃতপক্ষে তা নয়।

শ্রীভগবান হচ্ছেন পরম করুণাময়। তিনি সবাইকেই কৃপা করছেন। কিন্তু মানুষ ভগবানের আইন লঙ্ঘন করছে বলে, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করছে বলে, প্রকৃতির হাতে তাকে নির্যাতিত হতে হচ্ছে। মানুষ তার প্রকৃত বরাদ্দ পাচ্ছে না।

ঠিক যেমন ইলেকট্রিক বিল না দিলে ইলেকট্রিক লাইন কেটে দেওয়া হয়, টেলিফোনের বিল না দিলে টেলিফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনি যজ্ঞের মাধ্যমে আমরা যদি ভগবানের উদ্দেশ্যে আমাদের ঐকান্তিক নিবেদন বা নৈবেদ্য নিবেদন না করি, তাহলে প্রকৃতি আমাদের প্রয়োজনীয় সরবরাহগুলি বন্ধ করে দেবেন।

এই কলিযুগের একমাত্র যজ্ঞ হচ্ছে সংকীর্তন যজ্ঞ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

তাই এই মহামন্ত্র কীর্তনের মাধ্যমেই আমাদের সকল দুর্দশা দূর হবে।

★☞আমাদের পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করে সনাতন ধর্ম প্রচারে সহায়তা করুন...!!!

🙏

....হরেকৃষ্ণ....

Debasish Biswas
Hrishikesh
+2

🕉️ সনাতন ধর্মের চারটি মূল স্তম্ভ (চতুর্বিধ স্তম্ভ)

শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী (বিষ্ণুপুরাণ, ভাগবত পুরাণ, গীতা ও অন্যান্য সূত্র) সনাতন ধর্ম তথা ধর্মের চারটি স্তম্ভ হলোঃ

🌸 ১️. সত্য (Truthfulness)সত্যনিষ্ঠা, সত্য ভাষণ, সত্যাচার

👉 সত্য বলতে বোঝায় নিজের অন্তরের ও বাহ্যিক আচরণে সত্য থাকা।
📖 শ্রীমদ্ভাগবতম্ (১.১৭.২৪)
সত্যং শৌচং দয়া ক্ষান্তিরার্জবং শান্তিরৈব চ।
জন্মেনৈব মহাসত্ত্বা নৃণাং ধর্মো মহানিহ॥

অর্থাৎ, সত্য, শুচিতা, দয়া, ক্ষমা, সরলতা, শান্তি—এই সমস্ত গুণ মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে থাকা উচিত। এগুলো মানুষের মহান ধর্ম।

🌸 ২️. দয়া (Compassion)প্রাণীহিংসা বর্জন, সকলের প্রতি করুণা

👉 দয়া বা অহিংসা হলো জীবহত্যা না করা, জীবের মঙ্গলের চিন্তা করা।
📖 মহাভারত, অনুশাসন পর্ব (১১৫.১)
"অহিংসা পরমো ধর্মঃ"
👉 দয়া না থাকলে ভক্তি আসবে না।

🌸 ৩️. তপ (Austerity / তপস্যা)ইন্দ্রিয় সংযম, কৃচ্ছ্র সাধন, নিয়মমাফিক জীবন

👉 তপস্যা হলো নিজের কামনা-বাসনা সংযম করে ভগবানের আরাধনায় মনোনিবেশ করা।
📖 গীতা ১৭.১৪
দেবদ্বিজগুরুপ্রাজ্ঞপূজনং শৌচমার্জবম্।
ব্রহ্মচর্যমহিংসা চ শরীরং তপ উচ্যতে।।

🌸 ৪️. শৌচ (Cleanliness / পবিত্রতা)শারীরিক, মানসিক, এবং আচারগত শুদ্ধতা

👉 শৌচ মানে বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা বজায় রাখা।
📖 বিষ্ণুপুরাণ ৩.১২.৪১
"শৌচং তপশ্চ দয়া সত্যম্—এতদ্ ধর্মস্য লক্ষণম্।"

🌿 কলিযুগে ধর্মের চারটি স্তম্ভের ক্ষয়

শ্রীমদ্ভাগবতম্ (১.১৭.৩৮-৩৯) মতেঃ
কলিযুগে এই চারটি স্তম্ভ একে একে নষ্ট হয়ে যায়, বিশেষ করে সত্য, দয়া, তপস্যা আর শৌচ
অবশিষ্ট একমাত্র আশ্রয়হরিনাম সংকীর্তন