১. স্বর্গ (স্বগ):
অবস্থান: পুরাণ অনুসারে, স্বর্গলোক ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যভাগে অবস্থিত। এটি সপ্তলোকের একটি – স্বর্গলোক, যা ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ, মহঃ, জনঃ, তপঃ, সত্যঃ – এই সাতটি উচ্চলোকের মধ্যে তৃতীয়।
স্বর্গলোকের অধিপতি হলেন ইন্দ্র, এবং এটি দেবতাদের আবাসস্থল।
প্রকৃতি: এখানে সুখ-সুবিধা, অপ্সরা, গান, নৃত্য, ও অপার আনন্দের পরিবেশ বিরাজমান। পুণ্য কর্ম সম্পাদনের ফলে ব্যক্তি মৃত্যুর পর স্বর্গে যায়। তবে এটি চিরস্থায়ী নয় – পুণ্যের ফল শেষ হলে আত্মা আবার জন্মগ্রহণ করে।
গ্রন্থ অনুসারে উৎস:
গীতা (৮.১৬): "সব লোকই আবার জন্মে ফিরে আসে, তবে যিনি আমার কাছে পৌঁছান, তিনি আর জন্ম নেন না।"
বৃহদারণ্যক উপনিষদ ও গরুড় পুরাণে স্বর্গের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
২. নরক:
অবস্থান: নরকের অবস্থান পাতাললোকের নিচে, যেখানে যমরাজ ও তাঁর সহকারী চিত্রগুপ্ত আত্মাদের বিচার করেন। এটি গরুড় পুরাণ ও ভগবত পুরাণ-এ বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্রকৃতি: পাপী আত্মারা এখানে তাঁদের কর্ম অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করে। ২৮টি প্রধান নরক আছে, যেমন:
তামিস্র, রৌরব, মহারৌরব, কুম্ভীপাক, অসিপত্রবন ইত্যাদি।
উল্লেখযোগ্য পাপ ও শাস্তি:
যেমন – হত্যাকারীদের কুম্ভীপাকে ফোটানো হয়, মিথ্যাবাদীরা তামিস্র নরকে যায়।
যমরাজ, চিত্রগুপ্ত আত্মার পাপ ও পুণ্যের হিসাব রক্ষা করেন।


