একাদশী শব্দের অনেক অর্থ আছে, তার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হলো । বাহ্যিকভাবে, একাদশীর অর্থ হলো একাদশীর দিনে রবি শস্যাদি বর্জন করে উপবাসী থাকা। তবে এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যে অর্থটি রয়েছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাদশীকে যদি সংখ্যাগতভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে তা হবে ১+১০=১১। আশ্চর্যজনকভাবে, জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে পবিত্র যে তিথিগুলো রয়েছে সেগুলো একেকটি সংখ্যা অনুসারে পরিচিত, যেমনঃ অক্ষয় তৃতীয়া, গনেশ চতুর্থী, নাগ পঞ্চমী, ওড়ন ষষ্ঠী, অদ্বৈত সপ্তমী, রাধাষ্টমী, রাম নবমী, বিজয়া দশমী এবং একাদশী ইত্যাদি। অতএব, বিভিন্ন সংখ্যা অনুসারে বিভিন্ন উৎসব নির্দিষ্ট রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ যে অর্থটি রয়েছে সেটি হলো "একাদশ" অর্থ এগার এবং "উপবাস" শব্দে "উপ" অর্থ হলো 'নিকটে' ও "বাস" অর্থ 'বাস করা' অর্থাৎ একাদশীর অর্থ হলো "একাদশ ইন্দ্রিয় দিয়ে ভগবানের সন্নিকটে অবস্থান করা"। একাদশ ইন্দ্রিয়গুলো হলঃ পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা, ত্বক), পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় (বাক্, পাণি, পাদ, পায়ু, উপস্থ) এবং মন। মাঝে মাঝে অনেকে বলেন যে, শুধু উপবাস থাকার মাধ্যমে আপনি কিভাবে ভগবানকে সন্তুষ্ট করবেন? উপবাস থাকার মাধ্যমে তো কৃষ্ণকে পাওয়া যায়না। কিন্তু পদ্ধতিটি হল একাদশী দিবসে ভক্ত ভগবানের সেবায় এতোই নিবিষ্ট থাকে যে, জীবনের সাধারণ জৈবিক চাহিদাগুলো যেমনঃ আহার, নিদ্রা পর্যন্ত তার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। ভক্ত চাহিদাগুলো দূরে সরিয়ে একাদশ ইন্দ্রিয় দিয়ে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সেবা বর্ধিত করেন। ভগবানের সবচেয়ে উত্তম সেবা হচ্ছে তাঁর দিব্যনাম জপ ও কীর্তন। তাই, একাদশী তিথিতে ভক্তের উচিত যত বেশি সম্ভব ভগবানের দিব্যনাম জপ ও কীর্তন করা। কলিযুগের মানুষের জন্য প্রদত্ত ভগবানের দিব্যনাম হচ্ছে 'হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র'। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেছেন যে, "হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন এবং সুখী হোন।" তাই, একাদশীর দিনে উপবাসের পাশাপাশি আমাদের যত বেশি সম্ভব "হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র" জপ ও কীর্তন করা উচিত।
“রাধে রাধে“


