পাণ্ডবরা একাদশী কীভাবে পালন করতেন – এই বিষয়ে আমাদের জ্ঞান মূলত পদ্মপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব আচারশাস্ত্র থেকে পাওয়া যায়।
১. কঠোর উপবাস
পাণ্ডবরা একাদশীতে নির্জলা বা উপবাস করতেন।
বিশেষত ভীম খাবার ছাড়া থাকতে পারতেন না, তাই মহর্ষি বেদব্যাসের পরামর্শে তিনি বছরে একবার নির্জলা একাদশী পালন করতেন। এর ফলে তিনি সমস্ত একাদশীর ফল পেতেন।
অন্য চার পাণ্ডব (যুধিষ্ঠির, অর্জুন, নকুল, সহদেব) নিয়মিত একাদশীতে অনাহার বা ফলাহার করে উপবাস পালন করতেন।
২. পূজা ও ভজন
তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভক্তিভরে পূজা করতেন।
ভগবদ্গীতা পাঠ, বিষ্ণু-সহস্রনাম জপ, কৃষ্ণ নাম-সংকীর্তন ছিল তাঁদের প্রধান সাধনা।
রাত জেগে কৃষ্ণকীর্তন ও ভজন করতেন।
৩. দান ও সেবা
একাদশীর দিনে তাঁরা ব্রাহ্মণ, ঋষি ও দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র ও দান করতেন।
যুধিষ্ঠির মহারাজ একাদশীর দিনে রাজসভায় একাদশীর মাহাত্ম্য শ্রবণ করতেন ও সবার মাঝে প্রচার করতেন।
৪. সংসারজীবনে শৃঙ্খলা
একাদশীতে তাঁরা শয্যায় শয়ন করতেন না, মাটিতে বা কুশাশনে শুয়ে রাত্রি জাগরণ করতেন।
অন্য কোনো ভোগ-বিলাস, শিকার বা যুদ্ধকর্ম এই দিনে করতেন না।
৫. কৃষ্ণের আশ্রয়
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পাণ্ডবরা একাদশীকে কেবল উপবাস হিসেবে নয়, বরং কৃষ্ণভক্তি প্রকাশের বিশেষ দিন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণ নিজে তাঁদের একাদশীর মাহাত্ম্য শোনাতেন, বিশেষত ভীমকে নির্জলা একাদশীর মাহাত্ম্য বোঝান।
👉 সংক্ষেপে, পাণ্ডবরা একাদশী পালন করতেন উপবাস, পূজা, দান, রাত্রিজাগরণ ও কৃষ্ণস্মরণ দ্বারা। এর মাধ্যমে তাঁরা ভক্তি ও ধর্মরক্ষার শক্তি লাভ করতেন।


