কুসংস্কার বলতে এমন কিছু বিশ্বাস বা ধারণাকে বোঝায় যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা বাস্তবসম্মত কারণ নেই। সহজ কথায়, কোনো ঘটনা বা কাজের পেছনে কোনো যুক্তি ছাড়াই অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বা ভয় পাওয়াকেই কুসংস্কার বলা হয়।
কুসংস্কারের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
ভিত্তিহীন বিশ্বাস: এটি মূলত কাল্পনিক ভয় বা অলৌকিক ধারণার ওপর টিকে থাকে। যেমন— কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী দেখা দিলে অমঙ্গল হওয়া বা নির্দিষ্ট কোনো দিনে যাত্রা করা অশুভ মনে করা।
অন্ধবিশ্বাস: কুসংস্কারে মানুষ কোনো কিছু বিচার-বিশ্লেষণ না করেই মেনে নেয়। পূর্বপুরুষরা কিছু বলে গেছেন বা সমাজে প্রচলিত আছে বলেই তা সত্য মনে করা হয়।
ভয় ও অনিরাপত্তা: বেশিরভাগ কুসংস্কার মানুষের মনের অজানা ভয় থেকে জন্ম নেয়। মানুষ যখন কোনো বিপদের আশঙ্কায় থাকে, তখন তা এড়াতে নানা অযৌক্তিক নিয়ম পালন করে।
যুক্তি ও বিজ্ঞানের অভাব: বিজ্ঞানের আলোতে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। বিজ্ঞান যেখানে ‘কার্যকরণ সম্পর্ক’ (Cause and Effect) খোঁজে, কুসংস্কার সেখানে কেবল দৈব বা অলৌকিকতাকে প্রাধান্য দেয়।
কয়েকটি প্রচলিত উদাহরণ:
১.রাতে নখ কাটা অশুভ মনে করা।
২.ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কেউ হাঁচি দিলে যাত্রা অশুভ হবে ভাবা।
৩. বিড়াল রাস্তা পার হলে সামনে এগিয়ে যাওয়া বিপদজনক মনে করা।
কুসংস্কার দূর করার উপায়: কুসংস্কার সমাজ ও ব্যক্তির অগ্রগতির পথে বাধা। এটি দূর করার প্রধান হাতিয়ার হলো যৌক্তিক চিন্তা এবং বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা। যেকোনো প্রচলিত বিশ্বাসকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে তার পেছনের সত্যতা যাচাই করার মানসিকতা তৈরি করলেই কুসংস্কার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


