রাধা বলতে কি বুঝায়?
1 answers
30 views
Uzzwal Dhali
Asish Biswas
Dip Kar
+3
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

সনাতন ধর্মে ও বৈষ্ণব দর্শনে ‘রাধা’ কেবল একটি সাধারণ পৌরাণিক চরিত্র নন; তিনি হলেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পরম শক্তি, প্রেমানন্দের প্রতীক এবং পরম ভক্তির সর্বোচ্চ রূপ।

১. হ্লাদিনী শক্তি (আনন্দময়ী শক্তি)

বৈষ্ণব শাস্ত্র (যেমন—শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত) অনুযায়ী, ভগবানের তিনটি মূল শক্তি রয়েছে: সৎ (অস্তিত্ব), চিৎ (জ্ঞান) এবং আনন্দ। ভগবানের এই আনন্দ প্রদানকারী শক্তিকেই বলা হয় ‘হ্লাদিনী শক্তি’। রাধারানী হলেন শ্রীকৃষ্ণের এই সাক্ষাৎ হ্লাদিনী শক্তি। অর্থাৎ, কৃষ্ণ যদি হন আনন্দের আধার, তবে রাধা হলেন সেই আনন্দের মূল উৎস।

২. রাধা ও কৃষ্ণের অভেদ তত্ত্ব

শাস্ত্রে বলা হয়েছে—

"রাধা কৃষ্ণ এক তনু, দুই রূপ ধরি।

রসাশ্বাদন করে দোঁহে প্রেমরস ঢালি।।"

যেমন আগুন থেকে তার উত্তাপকে কিংবা সূর্য থেকে তার আলোকে আলাদা করা যায় না, তেমনই রাধা ও কৃষ্ণ মূলত একই সত্তা। প্রেমলীলার রস আস্বাদনের জন্য তাঁরা দুটি পৃথক রূপ ধারণ করেছেন মাত্র।

৩. নামের নিগূঢ় অর্থ

  • আরাধনা থেকে ‘রাধা’: শাস্ত্রীয় ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী, যিনি শ্রীকৃষ্ণের সর্বাধিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ আরাধনা করেন, তিনিই ‘রাধা’ ("আরাধ্যতে অনয়া ইতি রাধা")।

  • ‘ধারা’ শব্দ থেকে: ‘ধারা’ শব্দটিকে বিপরীত করলে হয় ‘রাধা’। অর্থাৎ, যা জীবাত্মার মনকে কৃষ্ণের দিকে প্রবাহিত করে বা কৃষ্ণের কৃপাধারা হিসেবে নেমে আসে, তা-ই রাধা।

৪. মহামাভাব ও পরম প্রেমানন্দ

বৈষ্ণব দর্শনে রাধারানীকে ‘মহামাভাব’-এর স্বরূপ বলা হয়। ভক্তির সর্বোচ্চ পর্যায় হলো ভাব, আর ভাবের বিশুদ্ধতম ও চূড়ান্ত বিকাশ হলো মহামাভাব। জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার যে অকৃত্রিম, স্বার্থহীন ও গভীর ঐশ্বরিক প্রেম, রাধাতত্ত্ব হলো তার শ্রেষ্ঠ প্রতীক।রাধা হলেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের নিজস্ব আনন্দের শক্তি (হ্লাদিনী শক্তি), নিষ্কাম প্রেমভক্তির সর্বোচ্চ আদর্শ এবং শ্রীকৃষ্ণের সাথে অভিন্ন এক পরম ঐশ্বরিক সত্তা।

Dip Kar
Uzzwal Dhali
+2