ইসকন (ISKCON) থেকে দীক্ষা গ্রহণ করা একজন ভক্তের আধ্যাত্মিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। দীক্ষা বা 'ইনিশিয়েশন' (Initiation) পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণত দুটি পর্যায়ে হয়: প্রথম দীক্ষা (হরিণাম দীক্ষা) এবং দ্বিতীয় দীক্ষা (ব্রাহ্মণ দীক্ষা)।
প্রথম দীক্ষা বা হরিণাম দীক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধান শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. চারটি কঠোর নিয়ম পালন (Regulative Principles)
দীক্ষা প্রার্থীকে অন্তত ১ থেকে ২ বছর (মন্দির বা গুরু ভেদে সময় ভিন্ন হতে পারে) কঠোরভাবে নিচের চারটি নিয়ম পালন করতে হয়:
আমিষ আহার বর্জন: মাছ, মাংস, ডিম এবং এমনকি পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়া যাবে না (সম্পূর্ণ নিরামিষ বা কৃষ্ণপ্রাসাদ গ্রহণ)।
নেশা বর্জন: চা, কফি, বিড়ি, সিগারেট, মদ বা পান-সুপারিসহ যেকোনো ধরনের মাদক দ্রব্য ত্যাগ করতে হবে।
অবৈধ সঙ্গ বর্জন: বিবাহিত জীবন ব্যতীত অন্য কোনো নারী বা পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রাখা যাবে না।
দ্যুতক্রীড়া বা জুয়া বর্জন: লটারি, জুয়া বা শেয়ার বাজারের ফাটকা কারবার থেকে দূরে থাকতে হবে।
২. জপ ও উপাসনা
প্রতিদিন অন্তত ১৬ মালা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র (হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে / হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে) জপ করতে হবে।
প্রাতঃকালীন মঙ্গল আরতি এবং শ্রীমদ্ভাগবত ক্লাস শোনার অভ্যাস করতে হবে।
৩. দীক্ষা কোর্স ও লিখিত পরীক্ষা
ইসকন থেকে বর্তমানে 'ইসকন ডিসাইপল কোর্স' (IDC) সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এটি একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স যা দীক্ষার আগে ভক্তকে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক এবং ইসকনের বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান দেয়।
দীক্ষার আগে একটি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়, যেখানে ভক্তি শাস্ত্র এবং ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল প্রভুপাদ সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়।
৪. ভক্তদের সঙ্গ ও সেবা
দীক্ষা প্রার্থীর আচরণ হতে হবে নম্র এবং ভক্তিমূলক।
স্থানীয় মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে।
অন্তত এক বছর স্থানীয় মন্দির কর্তৃপক্ষ বা কোনো কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজের ভক্তি জীবনের উন্নতি প্রদর্শন করতে হবে।
৫. প্রামাণ্য গুরুর সন্ধান
শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশিত ইসকনের বর্তমান কোনো অনুমোদিত গুরুর প্রতি নিষ্ঠা থাকতে হবে।
সাধারণত দীক্ষার ৬ মাস বা ১ বছর আগে থেকে পছন্দের গুরুর জন্য 'আশ্রয়' প্রার্থনা করতে হয়।
৬. মন্দির কর্তৃপক্ষের সুপারিশ
আপনি যে এলাকায় বা মন্দিরে যুক্ত আছেন, সেখানকার প্রধান বা কাউন্সেলরের কাছ থেকে একটি লিখিত সুপারিশপত্র প্রয়োজন হয়। তাঁরা নিশ্চিত করেন যে আপনি নিয়মিত নিয়মগুলো পালন করছেন।
দীক্ষা মানে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, এটি হলো আজীবনের জন্য গুরুর নির্দেশ মেনে কৃষ্ণভক্তি করার একটি অঙ্গীকার। আপনি যদি দীক্ষা নিতে আগ্রহী হন, তবে আপনার নিকটস্থ ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ বা কোনো সিনিয়র ভক্তের সাথে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো পথ।


