দুর্গাপূজার সময় গণেশ ঠাকুরের পাশে কাপড় জড়ানো যে কলাগাছটি রাখা হয়, তাকে সাধারণ লোকমুখে "কলাবউ" বলা হলেও, শাস্ত্রীয় বা পৌরাণিক মতে এটি গণেশের স্ত্রী নয়। এটি একটি বহুল প্রচলিত লোকবিশ্বাস বা ভুল ধারণা।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী কলাবউ-এর প্রকৃত পরিচয় ও গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. এটি প্রকৃতপক্ষে 'নবপত্রিকা' (দেবী দুর্গার প্রতীক):
কলাগাছটি আসলে 'নবপত্রিকা' বা নয়টি উদ্ভিদের একটি সমাহার। দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর সকালে নয়টি বিশেষ উদ্ভিদকে একত্রে বেঁধে, অপরাজিতা লতা দিয়ে পেঁচিয়ে, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে গণেশের ডান পাশে স্থাপন করা হয়।
২. নয়টি গাছের মাধ্যমে দেবী দুর্গার নয়টি রূপ:
এই নবপত্রিকার প্রতিটি গাছ দেবী দুর্গার একেকটি শক্তি ও রূপের প্রতিনিধিত্ব করে:
কলাগাছ (কদলী): দেবী ব্রহ্মাণী
কচু: দেবী কালিকা
হলুদ (হরিদ্রা): দেবী উমা
জয়ন্তী: দেবী কার্তিকী
বেল (বিল্ব): শিব/দেবী শিবা
ডালিম (দাড়িম্ব): দেবী রক্তদন্তিকা
অশোক: দেবী শোকরহিতা
মানকচু (মানক): দেবী চামুণ্ডা
ধান: দেবী লক্ষ্মী
৩. গণেশের পাশে রাখার কারণ:
গণেশ হলেন সমস্ত বিঘ্ননাশক এবং সিদ্ধিদাতা। যেকোনো পূজায় প্রথম পূজা পান গণেশ। নবপত্রিকাকে দেবীর প্রতীক হিসেবে গণেশের পাশে রেখে পূজা শুরু করা হয়। পৌরাণিক মতে গণেশের প্রকৃত দুই স্ত্রী হলেন রিদ্ধি (সমৃদ্ধি) ও সিদ্ধি (সফলতা)।
কলাবউ নাম হওয়ার কারণ:
নবপত্রিকাকে শাড়ি পরিয়ে ঘোমটা দিয়ে সাজানো হয় বলে এটি দেখতে বধূর মতো লাগে। সাধারণ মানুষ ভুলবশত একে গণেশের বউ বা 'কলাবউ' বলে আখ্যায়িত করেছে, যা পরবর্তীতে লোকসংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে।


