Dip KarVerified
August 26, 2026
পুরুষোত্তম মাস কি হিসাবে নির্ধারণ করা হয়?
1 answers
4 views
Dip Kar
Uzzwal Dhali
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
Dip KarVerified
August 26, 2026

পুরুষোত্তম মাস (যা মলমাস বা অধিকমাস নামেও পরিচিত) মূলত সূর্যবর্ষ (Solar Year) এবং চন্দ্রবর্ষের (Lunar Year) সময়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য নির্ধারণ করা হয়।

​পুরুষোত্তম মাস নির্ধারণের গাণিতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম:

​দিন ও সময়ের পার্থক্য: একটি সূর্যবর্ষ (সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন) প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টার হয়ে থাকে। কিন্তু একটি চন্দ্রবর্ষ (১২টি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার চক্র) প্রায় ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে। ফলে প্রতি বছর চন্দ্রবর্ষ ও সূর্যবর্ষের মধ্যে প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য তৈরি হয়।

​৩ বছরের হিসাব: প্রতি বছর জমা হওয়া এই ১১ দিনের পার্থক্য ৩ বছরে গিয়ে প্রায় ৩৩ দিনে (অর্থাৎ প্রায় এক পূর্ণ মাসে) দাঁড়ায়। এই বাড়তি সময়কে সমন্বয় করতেই প্রতি ৩২ মাস ১৬ দিন ৮ ঘণ্টা (প্রায় ৩ বছর) পর পর পঞ্জিকায় একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত করা হয়।

​সংক্রান্তিহীন মাস: হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, যে চন্দ্র মাসে সূর্য কোনো রাশিতে সংক্রমণ (স্থানান্তর) করে না, অর্থাৎ কোনো 'সংক্রান্তি' থাকে না, সেই চন্দ্র মাসটিকেই অধিকমাস বা মলমাস ধরা হয়।

​'পুরুষোত্তম মাস' নামাকরণের কারণ:

সনাতন সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক ১২টি মাসের প্রতিটি মাসের একজন করে অধিপতি দেবতা থাকেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত মাসে কোনো 'সূর্য সংক্রান্তি' না থাকায় সাধারণ শুভ কাজের (যেমন বিয়ে, গৃহপ্রবেশ) জন্য একে অশুভ বা 'মলমাস' বলা হতো। বৈষ্ণব শাস্ত্রানুসারে, শ্রীকৃষ্ণ (পুরুষোত্তম) কৃপা করে এই মাসটিকে নিজের নামে গ্রহণ করেন এবং আশীর্বাদ করেন যে এই মাসেকৃত জপ, তপ, পূজা ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ সাধারণ মাসের চেয়ে বহুগুণ বেশি ফলদায়ী হবে। তাই বৈষ্ণব সমাজে এটি পুরুষোত্তম মাস নামে পরম পবিত্র হিসেবে উদযাপিত হয়।