কিভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মাষ্টমী ব্রত সঠিকভাবে পালন করতে হয় তার নিয়ম ও সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো —
১. জন্মাষ্টমীর আগের দিন (সংযম)
আহার: পূর্ণাঙ্গ নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হবে।
রাত্রিকালীন নিয়ম: রাত ১২:০০টার আগেই রাতের খাওয়া শেষ করে জল গ্রহণ ও মুখ-দাঁত পরিষ্কার (ব্রাশ) করে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মনে মনে শ্রীকৃষ্ণ নাম বা "রাধা রাধা" জপ করতে করতে ঘুমাতে হবে।
২. জন্মাষ্টমীর দিন (ব্রত ও উপবাস)
প্রাতঃকৃত্য: ভোর ৪:০০ থেকে ৪:৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার-শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হবে।
সংকল্প: ঠাকুরের চরণে ফুল ও তুলসী পাতা অর্পণ করে ব্যাকুল হৃদয়ে প্রার্থনা করতে হবে - "হে ভগবান, আমায় তুমি তোমার ব্রত পালন করার অধিকার দান করো।"
উপবাস ও নাম জপ: সারাদিন নির্জলা উপবাস পালন করতে হবে (যাঁরা অসমর্থ বা অসুস্থ, তাঁরা জল বা ফল গ্রহণ করতে পারেন)। দিনভর শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ, অষ্টোত্তর শতনাম, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও কৃষ্ণকথা পাঠ বা শ্রবণ করতে হবে।
অভিষেক (রাত্রে): রাত ১০:০০টার পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক সম্পন্ন করতে হবে অথবা মন্দিরে ও অনলাইনে অভিষেক দর্শন করতে হবে।
অনুকল্প প্রসাদ: অভিষেকের পর একাদশীর মতো অনুকল্প প্রসাদ (যেমন: ফল, জল, আলু বা নির্দিষ্ট নিরামিষ সবজি) গ্রহণ করা যাবে।
রাত্রি জাগরণ: সম্ভব হলে সারারাত জেগে কৃষ্ণনাম জপ ও আরাধনা করা উত্তম।
৩. পারণ বা পরদিনের নিয়ম (ব্রত ভঙ্গ ও সমাপন)
প্রাতঃ প্রস্তুতি: পরদিন ভোর ৪:০০টার আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হবে।
ভোগ নিবেদন: শ্রীকৃষ্ণের জন্য অন্ন (ভাত), নানা পদের সবজি, পিঠা ও মিষ্টান্ন প্রস্তুত করে প্রভূর চরণে মহাপ্রসাদ হিসেবে নিবেদন করতে হবে।
পারণ (ব্রত ভঙ্গ): সকাল ৭:০০টার পর সেই মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে জন্মাষ্টমী ব্রতের পারণ (উপবাস ভঙ্গ) করতে হবে।
পারণের দিনের আহার: পারণের দিন সারাদিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হবে।


