সনাতন ধর্মের পরম গুরু কে?
1 answers
25 views
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

সনাতন ধর্মের পরম গুরু হিসেবে সাধারণত শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হয়। মহাভারতে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে "সমগ্র বিশ্বের পরম গুরু" হিসেবে সম্বোধন করেছেন। সনাতন ধর্মে "পরম গুরু" বা সর্বোচ্চ গুরু বলতে সরাসরি ভগবানকেই (ঈশ্বরকেই) বোঝানো হয়। কারণ সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে:

"গুরুঃ ব্রহ্মা গুরুঃ বিষ্ণুঃ গুরুঃ devo মহেশ্বরঃ।
সাক্ষাৎ পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥"

এই শ্লোক অনুযায়ী গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু, গুরুই মহেশ্বর, এবং গুরুই সাক্ষাৎ পরম ব্রহ্ম। তাই সর্বোচ্চ বা পরম গুরু হচ্ছেন পরমাত্মা স্বয়ং — যিনি বিভিন্ন অবতারে প্রকাশ হন এবং যিনি আমাদের আধ্যাত্মিক মুক্তির পথে পরিচালিত করেন।

তবে আধ্যাত্মিক পথে একজন ব্যক্তিগত গুরু বা আচার্য প্রয়োজন, যিনি জীবকে সঠিকভাবে ঈশ্বরের পথে পরিচালিত করেন। এই জন্য বৈষ্ণব মতানুসারে যেমন:

  • শ্রীকৃষ্ণ — পরম পুরুষ ও পরম গুরু

  • শ্রীমদ্ভগবদগীতা-য় স্বয়ং কৃষ্ণই অর্জুনের গুরু

  • শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু — যুগধর্ম প্রচারকারী এবং বহুজনের গুরু

  • শ্রীল ব্যাসদেব — সমস্ত ধর্মগ্রন্থের সংকলক ও আদি গুরু

  • গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতে — গুরুপরম্পরা (যেমন শ্রীল প্রভুপাদ প্রমুখ)

সারাংশ:

সনাতন ধর্মের পরম গুরু হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান (যিনি সত্য, জ্ঞান ও অনন্ত bliss-এর আধার)। আর মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে ঈশ্বর একজন গুরু বা আচার্য রূপে নিজেকে প্রকাশ করে থাকেন।

এছাড়াও, আদি শংকরাচার্য তার শ্রীকৃষ্ণ-অষ্টকম-এ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য "জগদ্গুরু" উপাধি ব্যবহার করেছেন। 

সনাতন ধর্মে, গুরু (শিক্ষক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। গুরু শব্দটি "ভারী" অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা বৈদিক জ্ঞানে ভারী। গুরু তার শিষ্যকে আলোকিত করেন এবং এই জগতে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে রক্ষা করেন। 

বিভিন্ন শাস্ত্রে বিভিন্ন ধরণের গুরুর কথা বলা হয়েছে, যেমন: 

  • সুচক গুরু:

    যিনি বিভিন্ন বিষয় শেখান।

  • বাচক গুরু:

    যিনি ঈশ্বর সম্পর্কে বক্তৃতা দেন এবং নির্দেশনা দেন।

  • বৌদ্ধ গুরু:

    যিনি আধ্যাত্মিকতা এবং প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেন।

  • নিষিধ গুরু:

    যিনি অন্যদের ক্ষতি করার জন্য কালো তন্ত্রের কৌশল শেখান, যা জ্ঞানী ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা উচিত।

এছাড়াও, মাতা-পিতা ও দীক্ষা গুরুকেও পরম গুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।