জয় ও বিজয় হিন্দু পুরাণের (বিশেষত ভাগবত পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণ) দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
পরিচয়
জয় ও বিজয় ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর বৈকুণ্ঠ ধামের দ্বাররক্ষক।
তারা সর্বদা ভগবানকে সেবা করতেন এবং তাঁর রাজপ্রাসাদের দরজায় প্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন।
শাপ ও জন্মকথা
একবার, চার কুমার (সনক, সনন্দন, সনাতন ও সনৎকুমার) ভগবানকে দর্শন করতে বৈকুণ্ঠে আসেন।
জয়-বিজয় তাঁদেরকে ভগবানের অন্তরঙ্গ নিকট সঙ্গী ভেবে চিনতে পারেননি এবং প্রবেশে বাধা দেন।
এতে চার কুমার ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁদেরকে মর্ত্যলোকে জন্ম নিয়ে অসুররূপে ভগবানের হাতে মৃত্যুবরণ করার অভিশাপ দেন।
ভগবানের ইচ্ছা
ভগবান বিষ্ণু তখন বলেন—
যদি তারা ভক্তরূপে জন্ম নেয়, তবে সাত জন্ম মর্ত্যে থাকতে হবে।
কিন্তু শত্রুরূপে জন্ম নিলে তিন জন্মের মধ্যেই বৈকুণ্ঠে ফিরে যেতে পারবে।
জয়-বিজয় ভগবানের কাছেই দ্রুত ফিরতে চাইলে অসুররূপে জন্ম নেওয়ার পথ বেছে নেয়।
তিন জন্ম
তাই তারা তিন যুগে ভগবানের হাতে নিহত হয়েছিলেন—
সত্যযুগে — হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু (ভগবান বরাহ ও নৃসিংহ অবতার দ্বারা নিহত)।
ত্রেতাযুগে — রাবণ ও কুম্ভকর্ণ (ভগবান রামচন্দ্র কর্তৃক নিহত)।
দ্বাপরযুগে — শিশুপাল ও দন্তবক্রী (ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক নিহত)।
এরপর শাপ মুক্ত হয়ে তারা আবার ভগবান বিষ্ণুর নিকট ফিরে যান।
👉 অর্থাৎ, জয় ও বিজয় ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর দ্বাররক্ষক, যারা ভগবানের লীলার অঙ্গ হিসেবে মর্ত্যে অসুররূপে জন্ম নিয়েছিলেন।


