জয় ও বিজয় ছিলেন বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষী, ভগবান বিষ্ণুর পরমভক্ত। তাঁদের অভিশাপ ও মুক্তির কাহিনী সংক্ষেপে এভাবে—
অভিশাপের কারণ
একদিন চার কুমার (সনক, সনন্দন, সনাতন, সনৎকুমার) বৈকুণ্ঠে ভগবান বিষ্ণুর দর্শনে যেতে আসেন। কিন্তু জয় ও বিজয় অহংকারবশত তাঁদের থামিয়ে দেন। এতে রুষ্ট হয়ে কুমারগণ তাঁদের অভিশাপ দেন—
“তোমরা অহংকার করেছ, তাই স্বর্গ থেকে পতিত হবে। তিন জন্ম রাক্ষস হিসেবে মর্ত্যে জন্ম নেবে।”
ভগবান বিষ্ণুর শর্ত
ভগবান বিষ্ণু এসে তাঁদের অভিশাপ মেনে নিলেন। তবে শর্ত রাখলেন—
যদি ভগবানকে শত্রু হিসেবে তিন জন্ম গ্রহণ করে, তবে দ্রুত মুক্তি পাবে।
আর যদি ভগবানকে ভক্ত হিসেবে সাত জন্ম নাও, তবে দীর্ঘদিন পরে মুক্তি পাবে।
জয় ও বিজয় ভগবানকে দ্রুত দর্শন করতে চেয়েছিলেন, তাই তাঁরা শত্রু রূপে তিন জন্ম নিলেন।
তিন জন্মের কাহিনী
ত্রেতাযুগে— হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু (ভগবান বরাহ ও নৃসিংহ অবতার কর্তৃক নিহত)
ত্রেতাযুগে— রাবণ ও কুম্ভকর্ণ (ভগবান রামচন্দ্র কর্তৃক নিহত)
দ্বাপরযুগে— শিসুপাল ও দন্তবক্র (ভগবান কৃষ্ণ কর্তৃক নিহত)
মুক্তি
তিন জন্মে ভগবানের হাতে মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের অভিশাপের পরিসমাপ্তি হয়। পরে জয় ও বিজয় আবার বৈকুণ্ঠে ফিরে গিয়ে ভগবান বিষ্ণুর সেবা লাভ করেন।
👉 তাহলে, জয় ও বিজয় ভগবানের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন তাঁরই হাতে মৃত্যুর মাধ্যমে।


