শাস্ত্র ও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহাবিশ্বের ধারনা নিচে বর্ণনা করা হলো —
🌌 শাস্ত্রীয় ধারণা
— বেদ, ভাগবত, গীতা ইত্যাদি থেকে
১. অসীম ব্রহ্মাণ্ড
শাস্ত্রে বলা আছে, অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড আছে। প্রতিটি ব্রহ্মাণ্ডের নিজস্ব ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ আছে।
ব্রহ্মা-সংহিতা (৫.৪৮):
“যথা বহির্যথা ভেদাঃ স্বচ্ছায়া-ভবতী বহুঃ”
অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণুর নিঃশ্বাস থেকে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি ও লয় হয়।
২. মহাকাল ও মহাজগৎ
গীতার ৮ম অধ্যায়ের ১৭নং শ্লোকে বলা হয়েছে
सहस्र-युग-पर्यन्तम् अहः यद् ब्रह्मणो विदुः ।
रात्रिं-युग-सहस्रान्तां तेऽहोरात्रविदो जनाः ॥
sahasra-yuga-paryantam ahar yad brahmaṇo viduḥ
rātriṁ yuga-sahasrāntāṁ te ’ho-rātra-vido janāḥ
সহস্র-যুগ-পর্যন্তম্ অহঃ যদ্ ব্রহ্মণো বিদুঃ ।
রাত্রিং-যুগ-সহস্রান্তাং তে’হো-রাত্র-বিদো জনাঃ ।।অনুবাদঃ মানুষের হিসেব অনুযায়ী, এক হাজার যুগ মিলিয়ে ব্রহ্মার এক দিন হয়। তেমনি, তাঁর এক রাতও একই সময়ের। যারা এই গোপন রহস্য জানেন, তারা দিনের এবং রাতের সত্য উপলব্ধি করেন।
এক ব্রহ্মার দিন মানে মানুষের ৪৩২ কোটি বছর!
মানে সময়ের ধারণা অসীম বিশাল।
৩. সৃষ্টির প্রক্রিয়া
মহাবিশ্ব “প্রকৃতি” (প্রধান/প্রকৃতি দেবী) থেকে সৃষ্টি হয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করেন ভগবান।
“কাল” (সময়), “কর্ম” (জীবের কাজ), আর “স্বভাব” মিলেই এই সৃষ্টিচক্র ঘোরে।
🔭 আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা
1. Big Bang Theory
বিজ্ঞানের মতে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে এক “সিঙ্গুলারিটি” থেকে এই মহাবিশ্বের জন্ম হয়।
এর আগে সময়, স্থান, পদার্থ কিছুই ছিল না।
2. Expanding Universe
এডউইন হাবল প্রমাণ করেছেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
শাস্ত্রেও বলা আছে, সৃষ্টি প্রসারিত হয় এবং একসময় আবার মহা-প্রলয়ে সব বিলীন হয়।
3. Multiverse Hypothesis
আধুনিক বিজ্ঞানীরা এখন বহুবিশ্ব (multiverse) তত্ত্বের কথা বলেন।
শাস্ত্র বহু আগে বলেছে—অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড আছে।
👉 অর্থাৎ, শাস্ত্রে যেটা “দেবতার নিঃশ্বাসে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড” বলে বোঝানো হয়েছে, আধুনিক বিজ্ঞান সেটাকে “মাল্টিভার্স” বলে।
শাস্ত্রে “প্রলয়” বলা হয়েছে, বিজ্ঞানে সেটা “Heat death / Big crunch” ইত্যাদি নামে আলোচনা হয়।


