মহাভারতে সঞ্জয় (Sanjaya) ছিলেন রাজা ধৃতরাষ্ট্রের সারথি ও প্রধান উপদেষ্টা—একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ঋষিতুল্য দ্রষ্টা ও বর্ণনাকার।
সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় —
সঞ্জয়ের পরিচয়
পিতা: ঋষি গৌতম (কিছু গ্রন্থে বলা হয় তিনি ব্যাসদেবের শিষ্য)
পদবি: ধৃতরাষ্ট্রের রাজসভার প্রধান দূত ও সারথি
বিশেষ ক্ষমতা: ঋষি ব্যাসদেবের আশীর্বাদে তিনি দূরদর্শন শক্তি লাভ করেন—অর্থাৎ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলাকালীন তিনি সেখানে উপস্থিত না থেকেও সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে এমনভাবে দেখতে ও বর্ণনা করতে পারতেন।
মহাভারতে তাঁর ভূমিকা
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে সঞ্জয়ই ধৃতরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিবরণ শুনিয়েছিলেন।
ভগবদ্গীতা—যেখানে কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংলাপ—তা মূলত সঞ্জয়ের বর্ণনার মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি।
তিনি কেবল সংবাদদাতা নন; বহু সময়ে নৈতিক উপদেশ দিয়েছেন এবং ধৃতরাষ্ট্রকে অন্যায় পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকের প্রসঙ্গ
ভগবদ্গীতা শুরুই হয় সঞ্জয়ের বর্ণনা দিয়ে—
ধৃতরাষ্ট্র উবাচ —
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ...
(ভগবদ্গীতা ১.১)
এই শ্লোকের পর থেকেই সঞ্জয় কৃষ্ণ–অর্জুনের সংলাপ বর্ণনা করতে শুরু করেন।
চরিত্রগত দিক
ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ
ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য বোঝাতে সক্ষম
ধৃতরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বস্ত হলেও সত্য গোপন করেননি
👉 সংক্ষেপে বলা যায়, সঞ্জয় ছিলেন মহাভারতের “চোখ ও কণ্ঠ”, যার মাধ্যমে আমরা পুরো যুদ্ধ ও গীতার উপদেশ জানতে পারি।


