রামায়ণে বর্ণিত কাহিনী অনুসারে, লঙ্কা বিজয় এবং রাবণকে পরাজিত করার পর অযোধ্যার রাজা শ্রীরামচন্দ্র যখন সীতাদেবীকে উদ্ধার করেন, তখন সীতাকে তাঁর পবিত্রতা বা সতীত্বের প্রমাণ দিতে হয়েছিল। এটি 'অগ্নিপরীক্ষা' হিসেবে পরিচিত।
এই পরীক্ষার মূল ঘটনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অগ্নি কুণ্ড নির্মাণ: রামচন্দ্রের সংশয় দূর করতে এবং জনসমক্ষে নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করার জন্য মাতা সীতা অগ্নিতে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্মণকে দিয়ে একটি বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত করা হয়।
অগ্নিতে প্রবেশ: সীতা দেবী অগ্নির কাছে প্রার্থনা করেন যে, তিনি যদি মনে-প্রাণে এবং কর্মে রামের প্রতি বিশ্বস্ত ও পবিত্র থাকেন, তবে যেন আগুন তাঁকে দগ্ধ না করে। এই প্রার্থনা করে তিনি প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দেন।
অগ্নিদেবের আবির্ভাব: কিছুক্ষণ পর স্বয়ং অগ্নিদেব চিতা থেকে সীতাকে অক্ষত অবস্থায় কোলে নিয়ে বের হয়ে আসেন। অগ্নিদেব রামের কাছে সাক্ষ্য দেন যে, সীতা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ এবং পবিত্র।
উদ্দেশ্য: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, রাম ব্যক্তিগতভাবে সীতার ওপর বিশ্বাস রাখলেও, সমাজের মানুষের মনে যেন কোনো সন্দেহ না থাকে এবং আদর্শ রাজার মর্যাদা রক্ষার তাগিদেই এই কঠোর পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।
পরবর্তীতে, বনবাসের শেষ দিকে যখন আবারও সীতার পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তিনি সতীত্বের শেষ প্রমাণ হিসেবে পৃথিবী মাতার কাছে আশ্রয় চান এবং পাতাল প্রবেশ করেন। আপনার যদি সেই দ্বিতীয় ঘটনার (পাতাল প্রবেশ) বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকে, তবে জানাতে পারেন।


