Uzzwal DhaliVerified
August 28, 2025
এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে শাস্ত্রে কি বলা হয়েছে?
1 answers
27 views
Uzzwal Dhali
ঋষভ
Asish Biswas
+6
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
ঋষভNot verified
August 28, 2025

🌌 শাস্ত্রে মহাবিশ্ব সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা আছে। সংক্ষেপে কয়েকটি প্রধান দিক তুলে ধরছি—


১. মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও ভগবান

শ্রীমদ্‌ভাগবতমগীতাতে বলা হয়েছে—
ভগবান কৃষ্ণ (বা নারায়ণ) তাঁর মায়াশক্তির দ্বারা এই অসংখ্য মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন।

  • প্রতিটি মহাবিশ্ব একটি ব্রহ্মাণ্ড, যার ভেতরে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র, জীব রয়েছে।

  • ব্রহ্মাণ্ডের রক্ষক হলেন ব্রহ্মা, যিনি ভগবানের নাভিকমল থেকে জন্ম নেন।


২. অসংখ্য মহাবিশ্ব

শাস্ত্রে বলা হয়—

“অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড ভগবানের দেহের রোমকূপ থেকে বের হয়।”
(ব্রহ্মসংহিতা ৫.৪৮)

অর্থাৎ শুধু একটি নয়, অগণিত মহাবিশ্ব আছে। আমাদের মহাবিশ্ব তার মধ্যে ক্ষুদ্রতমও হতে পারে।


৩. মহাবিশ্বের গঠন

  • মহাবিশ্ব ১৪টি লোক বা স্তরে বিভক্ত:

    • সাতটি উর্ধ্বলোক (ভূর্লোক, ভুবর্লোক, স্বর্লোক… সত্যলোক পর্যন্ত)

    • সাতটি অধোলোক (অতল, বিতল, সুতল… পাতাল পর্যন্ত)

  • প্রতিটি লোকের নিজস্ব পরিবেশ, দেবতা ও জীবজন্তু আছে।


৪. সময়ের ধারণা

  • শাস্ত্র মতে সময় চক্রাকারে চলে।

  • এক মহাযুগ = সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি যুগ মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লক্ষ বছর।

  • এক হাজার মহাযুগ = ব্রহ্মার এক দিন।

  • ব্রহ্মার জীবনকাল প্রায় ১০০ ব্রহ্মবর্ষ = ৩১১ ট্রিলিয়ন মানববর্ষ।
    এরপর ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হয় এবং আবার সৃষ্টি হয়।


৫. জীব ও মহাবিশ্ব

গীতায় কৃষ্ণ বলেন—

“আমি এই সমগ্র জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল।”
(গীতা ৭.৬)

অর্থাৎ সব জীব, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ভগবানের ইচ্ছাতেই আবির্ভূত ও লয়প্রাপ্ত হয়।


✨ সংক্ষেপে—
শাস্ত্র অনুযায়ী মহাবিশ্ব অসীম, চক্রাকার, বহুস্তরবিশিষ্ট, আর তার নিয়ন্ত্রক হলেন সর্বশক্তিমান ভগবান।

ঋষভ
+1