'সৎকার' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো — ভালো কাজ, সদ্ব্যবহার, সমাদর বা কোনো কিছুকে সংস্কারের মাধ্যমে পবিত্র বা সুন্দর করা।
তবে সনাতন ধর্ম এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে 'সৎকার' (বিশেষ করে মৃতদেহের ক্ষেত্রে) বলতে বোঝায় — কোনো মৃত ব্যক্তির অন্তিম সংস্কার বা শাস্ত্রীয় ও সম্মানজনক উপায়ে তাঁর মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন করা।
মৃতদেহের ক্ষেত্রে সৎকারের মূল গভীর ভাবার্থগুলো নিচে দেওয়া হলো —
দেহের পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষা: সনাতন ধর্মে মানবদেহকে ঈশ্বরের মন্দির বলা হয়। তাই মৃত্যুর পর সেই জড় দেহটিকে যত্রতত্র ফেলে না রেখে বা অবহেলা না করে, পরম শ্রদ্ধার সাথে শাস্ত্রীয় বিধিমোতাবেক (যেমন: স্নান করানো, নতুন বস্ত্র পরানো এবং চন্দন দেওয়া) তার শেষ সংস্কার করাই হলো সৎকার।
পঞ্চভূতে বিলীন করা: হিন্দু দর্শন অনুযায়ী, আমাদের এই স্থূল শরীর পাঁচটি উপাদান বা পঞ্চভূত (ক্ষিতি বা মাটি, অপ্ বা জল, তেজ বা অগ্নি, মরুৎ বা বাতাস, এবং ব্যোম বা আকাশ) দিয়ে তৈরি। সৎকারের (অগ্নিদাহ বা অন্ত্যেষ্টির) মাধ্যমে এই পাঁচটি উপাদানকে পুনরায় প্রকৃতির নিজস্ব উপাদানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আত্মার যাত্রাকে সুগম করা: মৃতদেহের প্রতি আসক্তি বা মায়া ছিন্ন করে আত্মা যেন পরম শান্তিতে পরবর্তী গতি বা দিব্যলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারে, সৎকারের আচার-অনুষ্ঠান ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সেই প্রার্থনাই করা হয়।
তাই বলা যায়, মৃত মানুষের শরীরের শেষ সম্মানজনক ও শাস্ত্রীয় গতি করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াটিকেই 'সৎকার' বলা হয়।


