আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) বছর আগে সৌরজগতের সৃষ্টির সময়েই পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক ধারণানুযায়ী, সৌর নীহারিকা তত্ত্ব (Solar Nebula Hypothesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।
পৃথিবীর জন্মের মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সৌর নীহারিকার সংকোচন
৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে
মহাকাশে ধূলিকণা ও গ্যাসের (প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম) একটি বিশাল মেঘ বা নীহারিকা ছিল। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এই মেঘ সংকুচিত হতে শুরু করে এবং ঘূর্ণায়মান ডিশ বা চক্রের রূপ নেয়। এর কেন্দ্রস্থলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে সূর্যের জন্ম হয়।
গ্রহাণু ও পৃথিবীর ভ্রূণ গঠন
৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে
সূর্য তৈরির পর চারপাশে রয়ে যাওয়া ধূলিকণা ও পাথরের টুকরো মহাকর্ষের টানে একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে জমাট বাঁধতে শুরু করে। এগুলো বড় হতে হতে প্রোটোপ্ল্যানেট বা আদি গ্রহের রূপ নেয়, যার মধ্যে একটি ছিল আমাদের আদি পৃথিবী।
থিয়া ধাক্কা ও চাঁদের সৃষ্টি
৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে
'থিয়া' (Theia) নামের মঙ্গল গ্রহের আকারের একটি প্রোটোপ্ল্যানেট আদি পৃথিবীর সাথে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। এই সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর একটি অংশ মহাকাশে ছিটকে পড়ে এবং পরবর্তীতে জমাট বেঁধে চাঁদ তৈরি হয়।
শীতলীকরণ ও বায়ুমণ্ডল সৃষ্টি
৪.০ বিলিয়ন বছর আগে
শুরুর দিকে পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গলিত লাভার পিণ্ড। সময়ের সাথে সাথে এর উপরিভাগ ঠান্ডা হয়ে শক্ত ভূত্বক গঠন করে। আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া গ্যাস (জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন) পৃথিবীর আদি বায়ুমণ্ডল তৈরি করে।
মহাসাগর ও জীবনের আগমন
৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে
পৃথিবী আরও ঠান্ডা হলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে টানা বৃষ্টির সৃষ্টি করে এবং উল্কাপাত থেকে আসা পানি যুক্ত হয়ে মহাসাগর তৈরি হয়। এর কিছুকাল পরেই সমুদ্রের পানিতে প্রথম এককোষী জীবের উৎপত্তি ঘটে।


