হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী দুর্গার দশটি হাত মহাজাগতিক শক্তি, সুরক্ষাকবচ এবং সার্বিক ভারসাম্যের প্রতীক। তাঁর দশ হাতের প্রধান অর্থ ও কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
দশ দিক রক্ষা: হিন্দু শাস্ত্র মতে মহাবিশ্বে মোট দশটি দিক রয়েছে—পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, অগ্নি, বায়ু, নৈঋত, ঊর্ধ্ব (উপর) এবং অধঃ (নীচ)। দেবী দুর্গা তাঁর দশ হাত দিয়ে এই দশ দিককে আড়াল করে ভক্তদের সবদিক থেকে রক্ষা করেন।
দশ শক্তির সমন্বয়: দেবীকে বলা হয় ‘সর্বদেবময়ী’। মহিষাসুরকে বধ করার জন্য ত্রিভুবনের দেবতারা তাঁদের নিজ নিজ শক্তি ও তেজ দিয়ে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেছিলেন। এই দশটি হাত সেই সম্মিলিত মহাশক্তির প্রতীক।
দশটি বিশেষ অস্ত্র ধারণ: দেবতারা দুর্গাকে অসুর বধের জন্য দশটি অস্ত্র ও উপহার প্রদান করেছিলেন, যা তিনি তাঁর ১০টি হাতে ধারণ করেন:
ত্রিশূল: শিব প্রদত্ত (সত্ত্ব, রজ ও তম—এই তিন গুণের সামঞ্জস্য)
চক্র: বিষ্ণু প্রদত্ত (ধার্মিকতার সুরক্ষা ও সৃষ্টি পরিচালনা)
শঙ্খ: বরুণদেব প্রদত্ত (পবিত্রতা ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সুর ধ্বনি)
তীর-ধনুক: পবনদেব ও সূর্যদেব প্রদত্ত (লক্ষ্যভেদ ও শক্তির সংযোগ)
খড়্গ/অসি: কালদেব প্রদত্ত (জ্ঞান ও অজ্ঞতা বিনাশের প্রতীক)
গদা: যমদেব প্রদত্ত (আনুগত্য ও শক্তির সামঞ্জস্য)
বজ্র: ইন্দ্রদেব প্রদত্ত (দৃঢ়তা ও অটুট শক্তি)
পদ্ম: ব্রহ্মা প্রদত্ত (পবিত্রতা ও আত্মিক উন্মেষ)
নাগ/পাশ: বরুণদেব প্রদত্ত (অধর্মকে আবদ্ধ রাখা)
কুঠার/বিশ্বকর্মার অস্ত্র: বিশ্বকর্মা প্রদত্ত (অশুভ শক্তির ধ্বংস)
আশুভ শক্তি বিনাশ ও শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠা: দশ হাত মূলত এটিই প্রকাশ করে যে, মন্দ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি সর্বদা সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত।


