মহামায়া’ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—‘মহতী’ (মহৎ বা পরম) এবং ‘মায়া’ (যা পরিমাপ করে বা যা প্রকৃত সত্যকে আবৃত করে অলৌকিক শক্তির সৃষ্টি করে)।
এর মূল তাৎপর্য হলো “পরমেশ্বর বা ঈশ্বরের সেই পরাশক্তি, যিনি সমস্ত বিশ্বসংসারকে সৃষ্টি, রক্ষা ও মোহগ্রস্ত করে রাখেন এবং যাঁর কৃপায় পরম সত্য উদভাসিত হয়।”
দার্শনিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মহামায়া’ শব্দের মূল তাৎপর্যকে তিনটি প্রধান দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়:
আদ্যাশক্তি বা পরমেশ্বরী শক্তি: তিনি কোনো সাধারণ মায়াজাল নন, বরং পরমব্রহ্মের সর্বশক্তিমান ও অসীম শক্তি। এই শক্তির মাধ্যমেই নিগুণ পরমব্রহ্ম সগুণ রূপ ধারণ করেন এবং সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের মহাজাগতিক চক্র পরিচালিত হয়।
জাগতিক মোহ ও চেতনার আবরণ: সাধারণ জীবের ক্ষেত্রে মহামায়া হলেন সেই শক্তি, যা সত্য বা আত্মজ্ঞানকে আবৃত করে রাখে। এর ফলে মানুষ এই ক্ষণস্থায়ী জাগতিক জগতকে পরম সত্য মনে করে এবং মোহ, আসক্তি ও সুখ-দুঃখে লিপ্ত হয়।
মায়ামুক্তিসাধক বা পরম মোক্ষদাত্রী: মহামায়া কেবল মায়ায় আবদ্ধই করেন না, তিনিই মায়ামুক্তির একমাত্র উৎস। সাধক যখন তাঁর প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারেন, তখন দেবী নিজের মায়ার আবরণ সরিয়ে ভক্তকে পরম জ্ঞান ও মুক্তি প্রদান করেন।
মহামায়া হলো ব্রহ্মের সেই পরমা শক্তি, যিনি একাধারে সৃষ্টিজগতের নিয়ন্তা, জীবের মোহরচয়িতা এবং পরম সত্যে পৌঁছানোর পথপ্রদর্শক।


