꧁◼️প্রশ্ন:১৬ সন্ন্যাস ও ত্যাগ শব্দের পৃথক তাৎপর্য কি? (১৮/১) ◼️꧂
****শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – অষ্টাদশ অধ্যায় – মোক্ষসন্ন্যাসযোগ *****
|অর্জুন উবাচ |
❝ সন্ন্যাসস্য মহাবাহো তত্ত্বম্-ইচ্ছামি বেদিতুম্।
ত্যাগস্য চ হৃষীকেশ পৃথক্ কেশিনিষূদন॥ ❞
━┉┈┈(ভগবদ্গীতা, ১৮/১)
অনুবাদ: “অর্জুন বললেন – হে মহাবাহো, হে হৃষীকেশ, হে কেশিনিসূদন, আমি সন্ন্যাস ও ত্যাগের তত্ত্ব পৃথকভাবে জানতে ইচ্ছা করি।”
|শ্রীভগবানুবাচ|
❝ কাম্যানাং কর্মণাং ন্যাসং সন্ন্যাসং কবয়ো বিদুঃ।
সর্বকর্মফলত্যাগং প্রাহুঃ-ত্যাগম্ বিচক্ষণাঃ॥২॥ ❞
অনুবাদ:“পরমেশ্বর ভগবান বললেন ━ পণ্ডিতগণ কাম্যকর্মসমূহের ত্যাগকে সন্ন্যাস বলে জানেন এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ সমস্ত কর্মফল ত্যাগকে ত্যাগ বলে থাকেন।”
(আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা: — স্ত্রী, পুত্র, ধন ও স্বর্গ ইত্যাদি প্রিয় বস্তু প্রাপ্তির জন্য এবং রোগ-সংকট ইত্যাদি অপ্রিয় নিবৃত্তির জন্য যজ্ঞ, দান, তপস্যা, উপাসনা ইত্যাদি যেসব শুভ কর্মের শাস্ত্রে বিধান আছে অর্থাৎ যেসব কর্মের বিধানে এসব বলা হয়েছে যে অমুক ফলের ইচ্ছা হলে মানুষ এই কর্ম করবে, কিন্তু ঐ ফলের ইচ্ছা না হলে সেটি না করলে কোনো ক্ষতি নেই—এরূপ শুভ কর্মের নাম কাম্যকর্ম।পণ্ডিতগণের মতে সন্ন্যাসী তাঁরাই, যাঁরা কাম্যকর্মের অনুষ্ঠান না করে শুধুমাত্র নিত্য ও নৈমিত্তিক কর্তব্য-কর্মগুলিই বিধিবৎ পালন করেন।
যে বর্ণ ও যে আশ্রমে স্থিত মানুষের জন্য শাস্ত্রে যে কর্তব্যকর্মের বিধান রয়েছে এবং যা না করলে নীতি, ধর্ম ও কর্মের পরম্পরাতে বাধা আসে— সেই সমস্ত কর্মের বাচক হল এই ‘সর্বকর্ম‘ শব্দটি এবং এই সকল কর্মের ফলরূপে প্রাপ্ত স্ত্রী, পুত্র, ধন, মান, মর্যাদা, প্রতিষ্ঠা, স্বর্গসুখ ইত্যাদি ইহলোক ও পরলোকে যত ভোগ আছে —সেই সবের কামনা চিরতরে ত্যাগ করা, কোনো কর্মের সঙ্গে কোনো প্রকার ফলের সম্বন্ধ যোগ না করা, এই সমস্ত কর্মের ফলত্যাগ করে কেবল কর্তব্যকর্মের অনুষ্ঠানের পালনকেই বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ ত্যাগ মনে করেন।)
❝ যজ্ঞ-দান-তপঃ-কর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্ ॥৫॥ ❞
অনুবাদ:“যজ্ঞ, দান ও তপস্যা ত্যাজ্য নয়, তা অবশ্যই করা কর্তব্য ৷ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষীদের পর্যন্ত পবিত্র করে।”
❝ এতানি-অপি তু কর্মাণি সঙ্গম্ ত্যক্তা ফলানি চ।
কর্তব্যানি-ইতি মে পার্থ নিশ্চিতম্ মতম্-উত্তমম্ ॥৬॥ ❞
অনুবাদ:“হে পার্থ! আসক্তি ও ফলের আশা পরিত্যাগ করে এই সমস্ত কর্ম (যজ্ঞ, দান ও তপস্যারূপ কর্ম) কর্তব্যবোধেই সম্পন্ন করা উচিত। এই হল আমার নিশ্চিত ও উত্তম অভিমত।”


