হিন্দু শাস্ত্রে ৮৪ লক্ষ যোনি বলতে বোঝানো হয়েছে জীবাত্মার জন্মগ্রহণের সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রকার দেহ বা প্রাণীরূপ।
শাস্ত্রমতে, সংসার-চক্রে জীবাত্মা তার কর্মফল অনুযায়ী বিভিন্ন দেহে জন্মগ্রহণ করে থাকে। এই সব দেহকে “যোনি” বা জন্মগ্রহণের শ্রেণি বলা হয়। ৮৪ লক্ষ অর্থ এই নয় যে শাস্ত্র সবগুলো আলাদা প্রাণীর নাম বলেছে, বরং এটি জীবের অসংখ্য রূপকে একটি প্রতীকী ও শাস্ত্রীয় সংখ্যা হিসেবে ধরা হয়েছে।
গরুড় পুরাণ, পদ্ম পুরাণ, ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ ইত্যাদি গ্রন্থে বলা হয়েছে —
৯ লক্ষ জলচর
২০ লক্ষ স্থলচর জন্তু
৩০ লক্ষ কীটপতঙ্গ ও সরীসৃপ
১১ লক্ষ পাখি
৪ লক্ষ মনুষ্য জাতি (মানুষ ও মানবসদৃশ)
মোট = ৮৪ লক্ষ যোনি
📜 শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি (ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ, খণ্ড ২, অধ্যায় ২১):
জলজ নৱলক্ষাণি স্থলজ চতুর্লক্ষণি।
কৃম্যোরূপযোনি লক্ষাণি পক্ষিণাং দশলক্ষাণি।
মনুষ্যা চতুর্লক্ষাণি — এতদ্যোনি: চতুর্বিধা।।
অর্থাৎ, জলচর ৯ লক্ষ, স্থলচর ৪ লক্ষ, কীটপতঙ্গ ১১ লক্ষ, পাখি ১০ লক্ষ, মনুষ্য ৪ লক্ষ — এভাবেই যোনির সংখ্যা গণনা হয়।
👉 এর মর্ম হলো — জীবাত্মা জন্ম-মৃত্যুর অন্তহীন চক্রে নানা প্রকার দেহে ঘুরে বেড়ায়, যতক্ষণ না ভক্তি ও শুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করে ভগবানের ধামে পৌঁছায়।


