পারমার্থিক জীবনে গুরু গ্রহণ করার প্রশ্নটি আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শাস্ত্র, সাধু ও ঐতিহ্যের আলোকে কয়েকটি মূল কারণ দেওয়া যায়—
১. সঠিক দিশা পাওয়ার জন্য
আধ্যাত্মিক পথ অন্ধকারে হাঁটার মতো। শাস্ত্র অতি বিস্তৃত ও গভীর, সেগুলো সরাসরি বুঝে ওঠা সহজ নয়। একজন গুরু শিষ্যকে সঠিক ব্যাখ্যা দেন এবং বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেন।
২. বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
গুরু শুধু বইয়ের জ্ঞান দেন না, বরং তাঁর নিজের সাধনার অভিজ্ঞতা থেকে পথ দেখান। তাঁর জীবন ও আচরণই শিষ্যের জন্য শিক্ষা হয়ে ওঠে।
৩. অহং ভাঙা ও শরণাগতি শেখা
শিষ্য যখন গুরুর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, তখন তার অহং ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য এই শরণাগতি অপরিহার্য।
৪. আত্ম-শুদ্ধির প্রক্রিয়া
গুরু শিষ্যের দোষ-ত্রুটি নির্দেশ করেন এবং তাকে সংশোধনের পথে চালিত করেন। নিজের অন্ধ দোষ আমরা সহজে বুঝতে পারি না, গুরু তা আয়নার মতো সামনে তুলে ধরেন।
৫. শক্তি ও কৃপা প্রাপ্তি
শাস্ত্রে বলা হয়— “গুরুকৃপা হি केवलম” অর্থাৎ গুরুর কৃপা ছাড়া মুক্তি কঠিন। গুরু শিষ্যের অন্তরে আধ্যাত্মিক শক্তি জাগ্রত করতে সাহায্য করেন।
৬. পরম লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা
আধ্যাত্মিক সাধনায় অনেক বিচ্ছিন্ন পথ আছে। গুরু শিষ্যের স্বভাব অনুযায়ী উপযুক্ত উপায় ও লক্ষ্য নির্দেশ করেন, যাতে সে ভ্রান্তিতে না পড়ে।
সংক্ষেপে:
যেমন জটিল চিকিৎসায় একজন দক্ষ চিকিৎসকের আশ্রয় নিতে হয়, তেমনই আত্মার রোগ সারাতে বা মুক্তির পথ ধরতে একজন সত্যিকারের গুরুর শরণ নেওয়া প্রয়োজন। গুরু-শিষ্য সম্পর্ককে শাস্ত্রসমূহ “পরমার্থের সেতু” বলে অভিহিত করেছে।


