ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, গণেশ পূজায় তুলসী পাতা ব্যবহার না করার পেছনে একটি পৌরাণিক কাহিনি ও পারস্পরিক অভিশাপের ঘটনা রয়েছে।
পৌরাণিক কাহিনিটি সংক্ষেপে:
১. দেবী তুলসীর বিয়ের প্রস্তাব: একদা গঙ্গাতীরে ভগবান শ্রী গণেশ গভীর তপস্যা ও ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সেই সময় দেবী তুলসী সেখানে এসে গণেশের রূপ দেখে মোহিত হন এবং তাঁর মনে গণেশকে বিবাহ করার ইচ্ছা জাগে।
২. গণেশের প্রত্যাখ্যান: দেবী তুলসী বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করে গণেশের ধ্যান ভঙ্গ করেন। শ্রী গণেশ নিজেকে একজন নিবেদিত ব্রহ্মচারী হিসেবে প্রকাশ করেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তুলসীর বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে তপস্যা ভাঙা অশুভ।
৩. পারস্পরিক অভিশাপ:
প্রত্যাখ্যান ও অপমান বোধ করে ক্রোধের বশে দেবী তুলসী গণেশকে অভিশাপ দেন যে, "তোমার ইচ্ছা না থাকলেও তোমাকে দুটি বিবাহ করতে হবে।"
গণেশও পাল্টা অভিশাপ দিয়ে বলেন, "তোমার বিবাহ একটি অসুরের (রাক্ষস) সাথে হবে।"
৪. ক্ষমা প্রার্থনা ও বরদান: গণেশের অভিশাপ শুনে দেবী তুলসী নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। তখন গণেশ দয়ালু হয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, "তোমার বিবাহ শঙ্খচূড় নামক অসুরের সাথেই হবে, তবে পরবর্তীতে তুমি ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয় পাত্রী হবে এবং সমগ্র মর্ত্যলোকে পরম পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে পুজিত হবে। কিন্তু আমার এই ঘটনার কারণে আমার পূজায় তুলসী পাতা নিবেদন করা অশুভ ও নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে।"
সেই থেকে হিন্দু ধর্মে গণেশ পূজায় তুলসী পাতা নিবেদন করা থেকে বিরত থাকা হয়। তুলসী পাতার পরিবর্তে শ্রী গণেশকে সন্তুষ্ট করতে দূর্বা ঘাস ও লাল জবা ফুল নিবেদন করা হয়।


