Uzzwal DhaliVerified
August 24, 2026
বিবাহিত হিন্দু মহিলারা কেন শাঁখা-সিঁদুর পরে?
1 answers
15 views
Uzzwal Dhali
ঋষভ
Dip Kar
+3
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
Uzzwal DhaliVerified
August 24, 2026

বিবাহিত হিন্দু নারীদের শাঁখা ও সিঁদুর পরার পেছনে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। এটি কেবল সাজসজ্জা বা অলংকার নয়, বরং বিবাহিত জীবনের এক বিশেষ প্রতীক।

ধর্মীয় ও পৌরাণিক তাৎপর্য
পতিব্রতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক: সনাতন ধর্মে শাঁখা ও সিঁদুরকে ‘এয়স্ত্রী’ বা সধবার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। শাঁখা ধারণ এবং সিঁথিতে সিঁদুর পরা স্বামীর দীর্ঘায়ু, মঙ্গল এবং সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার প্রতীক।

দেবী শক্তির পূজা: সিঁদুর লাল রঙের, যা শক্তি ও ভক্তির দেবী লক্ষ্মী এবং দুর্গার প্রতীক। সিঁদুর ধারণের মাধ্যমে দেবী ভগবতীকে সম্মান জানানো হয় এবং তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে: কথিত আছে, শাঁখাসুর নামক এক অসুরের স্ত্রীর পতিব্রতা ধর্মের কারণে অসুরের বিনাশ হচ্ছিল না। পরবর্তীতে শিব যখন শাঁখাসুরকে বধ করেন, তখন তার হাড় থেকে শাঁখার উৎপত্তি হয় এবং দেবতারা শাঁখাসুর পত্নীকে সতীর প্রতীক হিসেবে শাঁখা ধারণের বর দেন।

জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
আজ্ঞাচক্রের সুরক্ষা: মানবদেহের কপাল এবং সিঁথির সংযোগস্থলকে ‘আজ্ঞাচক্র’ বলা হয়, যা মন ও চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সিঁদুর দিলে মানসিক শান্তি বজায় থাকে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

পারদের গুণাগুণ: ঐতিহ্যগতভাবে খাঁটি সিঁদুর তৈরি হতো হলুদ, চুন এবং সামান্য পারদ (Mercury) দিয়ে। পারদ শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে।

শাঁখার প্রভাব: শাঁখা তৈরি হয় সামুদ্রিক শঙ্খ থেকে। শঙ্খের তৈরি এই অলংকার হাতের কব্জির মাধ্যমে শরীরের রক্তসঞ্চালন সচল রাখতে সাহায্য করে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব
বৈবাহিক পরিচায়ক: সমাজে একজন নারীর বিবাহিত জীবনের উপস্থিতি প্রকাশ করার এটি একটি স্পষ্ট চিহ্ন।

মঙ্গলিক পরিবেশ: হিন্দু সংস্কৃতিতে লাল এবং সাদা রঙকে অত্যন্ত শুভ বা মাঙ্গলিক মনে করা হয়। সাদা শাঁখা সততা ও পবিত্রতার এবং লাল সিঁদুর প্রেম ও শক্তির বার্তা বহন করে।

Uzzwal Dhali
ঋষভ
Dip Kar
+3