শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী, দেবকী ও বসুদেবের অটল ভক্তি, সুকঠিন তপস্যা এবং পরমেশ্বর ভগবানের দেওয়া বরের ফলেই তাঁরা শ্রীকৃষ্ণকে সন্তান হিসেবে লাভ করার পরম সৌভাগ্য পেয়েছিলেন। প্রথম জন্মে বসুদেব ছিলেন 'সুতপা' নামক এক প্রজাপতি এবং দেবকী ছিলেন তাঁর স্ত্রী 'পৃশ্নি'। সন্তান লাভের ব্যাকুলতায় তাঁরা হাজার হাজার বছর ধরে পরম নিষ্ঠার সাথে পরমাত্মার কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাঁদের এই অকৃত্রিম ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শ্রীহরি যখন স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে বর চাইতে বললেন, তখন ভগবানের পরম সুন্দর রূপ দেখে মোহিত হয়ে এই দম্পতি ব্যাকুল হৃদয়ে তিনবার প্রার্থনা করেছিলেন, "হে প্রভু, আমরা আপনার মতোই এক সন্তান লাভ করতে চাই।"
ভগবান মুচকি হেসে তাঁদের উত্তর দিয়েছিলেন যে, এই সৃষ্টিতে তাঁর মতো তো কেবল তিনি নিজেই আছেন, অন্য কেউ নেই। তাই তিনি কথা দেন যে, তাঁদের অপরিসীম বাৎসল্য প্রীতি আস্বাদন করতে তিনি নিজেই তিন যুগে তিনবার তাঁদের ঘরে সন্তান হয়ে অবতীর্ণ হবেন। সেই কথামতো প্রথম জন্মে তিনি সুতপা ও পৃাশ্নির ঘরে 'পৃশ্নিগর্ভ' রূপে আসেন। এরপর ত্রেতাযুগে তাঁরা যখন কশ্যপ ও অদিতি হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন, তখন ভগবান তাঁদের পুণ্যময় কোলে অবতারিত হন 'বামন' রূপ ধরে।
অবশেষে দ্বাপর যুগে যখন তাঁরা বসুদেব ও দেবকী হিসেবে ধরণীতে আসেন, তখন ভগবান তাঁর দেওয়া শেষ প্রতিশ্রুতিটি পূরণ করেন। সেই সাথে মথুরার কংসসহ অন্যান্য অত্যাচারী অসুরদের বিনাশ করে পৃথিবীতে ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করারও প্রয়োজন ছিল। তাই পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং সর্বৈশ্বর্যপূর্ণ শ্রীকৃষ্ণ রূপে ভাদ্রের ঘোর অন্ধকার রাতে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের কোল আলো করে অবতীর্ণ হন। ভক্তের প্রতি ভগবানের এই যে গভীর ভালোবাসা ও কথা রাখার অহেতুকী কৃপা, তারই পরম নিদর্শন হলো কৃষ্ণ রূপে তাঁদের ঘরে ভগবানের এই অবতার গ্রহণ।


