শাস্ত্রজুড়ে শ্রী হনুমানের শক্তি, বীরত্ব ও বলের অগাধ বর্ণনা পাওয়া যায়। রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন পুরাণে তাঁকে কেবল শারীরিকভাবে শক্তিশালী হিসেবেই নয়, বরং সর্বপ্রকার শক্তির আধার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বায়ুপুত্র হনুমান মূলত ভগবান শিবের একাদশ রুদ্র অবতার। তাই জন্মসূত্রেই তিনি পরম ঐশ্বরিক শক্তি প্রাপ্ত। শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, শিশুকাল থেকেই তিনি এতটাই বলশালী ছিলেন যে উদীয়মান সূর্যকে ফল মনে করে গ্রাস করার জন্য এক লাফে আকাশে উঠে গিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ব্রহ্মা, ইন্দ্র, সূর্য, কুবেরসহ সমস্ত দেবগণ তাঁকে নিজস্ব অস্ত্রের তেজ ও বিশেষ বর প্রদান করেন। ইন্দ্রের বজ্রাঘাতেও তাঁর থুতনি শক্ত হয়ে গিয়েছিল বলে তাঁর নাম হয় 'হনুমান' এবং তিনি 'বজ্রাঙ্গ' (যা থেকে চলতি ভাষায় 'বজরংবালী') নামে পরিচিত হন।
শ্রী হনুমানের বলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির শক্তি। তিনি নিজের ইচ্ছামত শরীরকে পরমাণুর মতো ক্ষুদ্র ('অণিমা') কিংবা বিশাল পর্বতের মতো মহাকায় ('মহিমা') রূপ দিতে পারতেন। রামায়ণে লঙ্কা দাহ করার সময় কিংবা মহাসমুদ্র এক লাফে পার হওয়ার সময় তাঁর এই বিপুল শক্তির প্রকাশ ঘটে। যখন লক্ষণ মেঘনাদের শক্তিশেলে মূর্ছিত হন, তখন সঠিক ঔষধি চিনতে না পেরে হনুমান গোটা গন্ধমাদন পর্বতকেই এক হাতে তুলে নিয়ে উড়ে এসেছিলেন। মহাভারতেও ভীমের গর্ব চূর্ণ করার জন্য হনুমান নিজের লেজটি রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন, যা মহাশক্তিশালী ভীম বহু চেষ্টা করেও এক ইঞ্চি নাড়াতে পারেননি।
তবে শাস্ত্রে বারবার বলা হয়েছে, হনুমানের আসল বল কেবল শারীরিক শক্তিতে নয়, বরং তাঁর অটল 'রামভক্তি' এবং 'বুদ্ধিমত্তায়'। তুলসীদাস রচিত শ্রী হনুমান চালীসায় বলা হয়েছে - "অষ্ট সিদ্ধি নব নিধি কে দাতা" এবং "মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী"। তিনি রামনামের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। তাই বৈষ্ণব ও সনাতন ভাবধারায় হনুমানকে অসীম সাহস, পরম ভক্তি, অতুলনীয় বল এবং দাস্যভাবের শ্রেষ্ঠ রূপ হিসেবে পূজা করা হয়।


